


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: পুরুলিয়া জেলে বন্দি গ্যাংস্টার শেরুকে ফোন করাই কাল হলো। দুবছর ধরে পলাতক পুরুলিয়ায় একটি নামি সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় শেরুর ডান হাত বলে পরিচিত অমন কুমার সিং বিবার এসটিএফের হাতে ধরা পড়ল সমস্তিপুর থেকে। বাইরে থেকে শেরুর টিমকে সংগঠিত করে আবার রাজ্যে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল বলে জানা যাচ্ছে। তাকে রাজ্যে নিয়ে আসবে রাজ্য পুলিস।
২০২৩র আগাস্ট মাসে পুরুলিয়া ও রাণাঘাটে একটি নামী জুয়েলারি শপে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুরুলিয়া থেকে দুষ্কৃতীরা আট লক্ষ টাকার সামগ্রী নিয়ে পালায়। তদন্তে নেমে জেলা পুলিস জানতে পারে এই গ্যাংকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল সমস্তিপুরের অমন কুমার সিং। দুহাতে বন্দুক চালাতে এই দক্ষ যাওয়ার সময় গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালায়। পরে শেরুকে বিহারের জেল থেকে নিয়ে এসে জেরা করে পুরুলিয়া জেলা পুলিস জানতে পারে তার টিম এই হামলা চালিয়েছে। তার কথামতো অমন এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু অমনকে পাওয়া যায়নি। তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিহার পুলিসকে দেয় রাজ্য পুলিস।
বিহার এসটিএফ জানতে পারে অমনের অধীনে পনেরো থেকে কুড়ি জন মেম্বার রয়েছে। যারা বিভিন্ন রাজ্যে জুয়েলরি দোকান বা স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে। পুরুলিয়ায় ঘটনার পর বছর খানেকের বেশি সময় গা ঢাকা দিয়ে ছিল অমন। কিন্তু বিহার এসটিএফ তার বিষয়ে লাগাতার খোঁজখবর চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বারবার মোবাইল বদলানোয় পুলিসের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছিল। সম্প্রতি চন্দন মিশ্রা খূনের ঘটনায় শেরুর গ্যাংয়ের কয়েকজন শার্প শ্যুটার ধরা পড়ে বিহার এসটিএফের হাতে। শার্প শ্যুটার তৌসিফকে জেরার সময় তদন্তকারীরা জানতে পারেন অমন আবার কাজ শুরু করেছে। তাদের দলের কয়েকজনকে ডেকে বৈঠকও করেছে। তবে সবটাই করছে পুরুলিয়া জেল বন্দি শেরুর নির্দেশমতো। গ্যাংস্টারের সঙ্গে কথাও হচ্ছে। ধরা পড়া দুষ্কৃতীরা অমনের লেটেস্ট নম্বর দেয়। সেই সূত্র ধরে অফিসাররা জানতে পারেন জেলে বসে শেরু অপারেশন কোথায় হবে তার জায়গা ঠিক করে দিচ্ছে। সেই সূত্র ধরে জানা যায় অমন সমস্তিপুর এলাকায় রয়েছে। সেইমতো টিম সেখানে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের কয়েকটি নামী দোকানকে টার্গেট করেছিল। তার টিম গিয়ে এলাকা রেকি করে আসে। গ্যাং মেম্বারদের নিয়ে বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছে কোথায় কীভাবে অপারেশন হবে। এরজন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র জোগাড় করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা জেনেছেন অমনের টিমের সদস্যরা এই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়তিম যোগাযোগ রাখছিল। এমনকী তাদের কাছে নতুন আর্মসও পাঠিয়েছে। এখানে অপারেশনে তাদের সঙ্গে নেওয়া হতো। এখানকার শাগরেদ কারা রয়েছে তা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চায় রাজ্য পুলিস।।