সংবাদদাতা, বজবজ (গদাখালি): গঙ্গার ডলফিন বাঁচাতে ও সংরক্ষণ নিয়ে বুধবার একটি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। বুধবার নোদাখালির রায়পুরের গদাখালি ঘাটে মৎস্যজীবীদের নিয়ে তা অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের বন ও পরিবহণ দপ্তর, ডব্লুডব্লুএফ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আইসিএআর- সিআইএফআরআই ছিল শিবিরের তত্ত্বাবধানে।
ইলিশের ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরি করেন পূর্ণ পাত্র নামে এক প্রবীণ মৎস্যজীবী। এই কাজে তাঁকে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ধরা হয়।
তিনি বলেন, ৩০ বছর আগে ভাগীরথীতে গাঙ্গেয় ডলফিন(শুশুক) যে সংখ্যায় দেখা যেত তা এখন দেখা যায় না। এখন আগের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ নজরে পড়ে। ৩০ বছর ধরে হাতে টানা বৈঠা নৌকায় ভাগীরথীতে মাছ ধরি। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা থেকে বুড়ুল, গদাখালি থেকে হাওড়ার গাদিয়ারা পর্যন্ত ঘুরি। এককালে শয়ে শয়ে ডলফিন দেখতাম। এই স্তন্যপায়ীরা নৌকার কাছাকাছি চলে আসত। কথা বললে আরও কাছে চলে আসত। এখন কখনও সখনও দেখতে পাই। নদীর জলে দূষণ বেড়েছে। ডলফিন যে মাছ খেতে ভালোবাসে তা কমেছে। এছাড়া ওদের বসবাসের উপযোগী নয় নদীর জল। তাই কমছে। সিআইএফআরআই’য়ের ফিল্ড ওয়ার্কার সূর্য পাত্র বলেন, আমাদের অধিকর্তা ডঃ বসন্তকুমার দাসের তত্ত্বাবধানে ডলফিন সংরক্ষণে নদী সংলগ্ন অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের মধ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে এক বছর ধরে। দশ বছর আগেও বাতের চিকিৎসায় মৃত ডলফিনের তেল ব্যবহার করা হতো। লাগাতার প্রচারের ফলে তা বন্ধ হয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি পঙ্কজ সরকার ডলফিনের বৈশিষ্ট্য এবং তারা মৎস্যজীবীদের কতটা উপকার করে তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী আইনে শুশুক ধরা, বিক্রি এবং বিরক্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সবার এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। জালে ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া উচিত। বেশি সময় ধরে আটকে থাকলে প্রাণীগুলি শ্বাস নিতে না পেরে মারা যায়। কেন্দ্রীয় সরকার সমীক্ষা করে দেখেছে, ভারতে এখন গাঙ্গেয় ডলফিনের সংখ্যা মাত্র ৬ হাজার ২৫০।-নিজস্ব চিত্র