স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও, গঙ্গাসাগর মেলাকে আজও জাতীয় মেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, ২০২৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের মেলাতে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শনিবার কাকদ্বীপের স্টেডিয়াম মাঠের সভা থেকে তা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি প্রথমে কাকদ্বীপের রবীন্দ্রভবনে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, সাংসদ, বিধায়ক ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। এরপরই কাকদ্বীপের স্টেডিয়াম মাঠে সভা করেন। সেখানে তিনি বলেন, এবারের গঙ্গাসাগর মেলা আন্তর্জাতিক মানের করা হবে। আর যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ কুম্ভ মেলা হল শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরের মেলা। তাহলে কি সেই কুম্ভ মেলার সমতুল্য ভাবেই এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে সাজিয়ে তোলা হবে? মেলাতে যাতায়াত, নদী পারাপার ও পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে বিশেষ কিছু কি ব্যবস্থা রাখা হবে? এরকম নানা প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে এলাকাবাসীর মনে। গঙ্গাসাগর মেলাকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। এবছর মুড়িগঙ্গা নদীতে ভাটার সময় সারাক্ষণই ভেসেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে ড্রেজিংয়ের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করা হবে। ভিড়ের চাপে গত ২০১৭ সালের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেদিকে কড়াকড়ি ভাবে নজর রাখা হবে।
অন্যদিকে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্মীয়মাণ সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ২০২৯ সালে এই সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী সভা থেকে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আগের সরকার মুড়িগঙ্গা নদীর সেতু নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। এমনকি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) করা হয়নি। এই সরকার সব কাজ সম্পূর্ণ করেছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা—‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা অনেক বড় জেলা। আগামী দিনে প্রশাসনিকভাবে এই জেলাকে বিভক্ত করে কাকদ্বীপকে সামনে রেখে সুন্দরবন জেলা গড়ে তোলা হবে। সুন্দরবনের প্রতিটি দ্বীপকে জুড়ে দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা প্রাণ ও ধর্ম বাঁচাতে অন্য দেশ থেকে এদেশে এসেছেন, তাঁরা হলেন শরণার্থী। তাঁরা সিএএ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আবেদন করুন। শীঘ্র সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য জেলাশাসক ও মহকুমা শাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।’ -নিজস্ব চিত্র



