


সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহকে সামনে রেখে বড় চমক তৃণমূল পরিচালিত গঙ্গারামপুর পুরসভার। বৃহস্পতিবার শহরের পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি জল প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হল। অনুষ্ঠানে ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র, পুরদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও অন্য আধিকারিকরা।
কেন্দ্র–রাজ্য যৌথ উদ্যোগে নগর উন্নয়ন দপ্তরের আম্রুত ২ প্রকল্পে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার বরাদ্দে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহরকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে নির্মিত হচ্ছে পাঁচটি বৃহৎ জলাধার ও ২৩টি পাম্পিং স্টেশন। পুরসভার দাবি, চার মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি দিয়েই পুরবোর্ড দখল করেছিল তৃণমূল। পরপর দু’দফা ক্ষমতায় থাকলেও প্রথম পাঁচ বছরে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। যার প্রভাব পড়ে ২০১৯ সালের লোকসভা, ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে। টানা তিন নির্বাচনে শহরে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল শিবির। এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি বাস্তব রূপ দেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে পুরবোর্ড। এবার কাজের অগ্রগতিকে সামনে রেখে ভোটের ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। খরায় শহরে যে তীব্র জলসংকট দেখা দেয়, তা মাথায় রেখেই আগেভাগে পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ বলে দাবি পুরকর্তাদের।
জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, জলই হতে চলেছে এবারের ভোটের মূল ইস্যু। বিজেপি বিধায়কের শহরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ না থাকার অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানাচ্ছে তৃণমূল। দীর্ঘদিনের জলসংকটে ভোগা শহরবাসীর একাংশ অবশ্য প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। এখন দেখার ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।
পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে পেরে আমরা গর্বিত। বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক শহরের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি। এবার শহরবাসী উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন।
অন্যদিকে, গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন রায়ের কটাক্ষ, নির্বাচনের মুখে শহরবাসীকে ললিপপ দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হবে না। নিজস্ব চিত্র