Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুর, মেদিনীপুর শহরে গণেশ পুজোর ধুম, মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়

দুর্গাপুজোর আগে গণেশ পুজোয় মাতল রেল শহর। থিমের পুজো দেখতে বুধবার ভিড় জমালেন মানুষ। কোনও ক্লাবের থিম থাইল্যান্ডের মন্দির।

খড়্গপুর, মেদিনীপুর শহরে গণেশ পুজোর ধুম, মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়গপুর: দুর্গাপুজোর আগে গণেশ পুজোয় মাতল রেল শহর। থিমের পুজো দেখতে বুধবার ভিড় জমালেন মানুষ। কোনও ক্লাবের থিম থাইল্যান্ডের মন্দির। আবার কোনও ক্লাব ৩০১ কেজি ওজনের লাড্ডু বানিয়ে তাক লাগিয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু খড়গপুর শহরেই ছোটবড় শতাধিক গণেশ পুজো হচ্ছে। থিমের পুজোর পাশাপাশি বসেছে মেলাও। কচিকাঁচাদের জন্য এসেছে সার্কাস। বিক্রিবাটা ভালো হওয়ায় খুশি ছোট ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, কয়েক বছর আগেও এত গণেশ পুজো হতো না। গত দু’-তিন বছরে গণেশ পুজো দশগুণ বেড়েছে। একই ছবি মেদিনীপুর শহরেও। সেখানে প্রায় একশোর কাছাকাছি গণেশ পুজো হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন জুন মালিয়া। তবে মেদিনীপুর শহরে মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপই বেশি। জুন মালিয়া বলেন, গণেশ পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের আবেগ দেখে আপ্লুত। প্রতিটি মণ্ডপ বিভিন্ন শিল্পকলা দিয়ে সাজানো হয়েছে। জেলাবাসীকে গণেশ পুজোর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, গণেশ পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণেশ পুজোকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা ছিল খড়গপুর শহর ও সংলগ্ন এলাকায়। খড়গপুরের খরিদা গুরুদুয়ার এলাকায় ‘সাইন স্টার বয়েজ ক্লাব’ বাঁশ ব্যবহার করে মণ্ডপ সাজিয়েছে। একইসঙ্গে পুজো উপলক্ষ্যে তাঁরা ৩০১ কেজি ওজনের লাড্ডু তৈরি করে তাক লাগিয়েছে। সেই লাড্ডু দেখতে প্রথম দিনই উপচে পড়ে ভিড়। এবছর তাদের পুজোর ২৫তম বর্ষ। ক্লাবের সদস্য বিবেক কুমার বলেন, লাড্ডু দেখতে বহু মানুষ আসছেন। নিষ্ঠা সহকারে পুজো হচ্ছে। অপরদিকে, খড়গপুর শহরের রাবণ পোড়া মাঠে আজাদ বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগেও হচ্ছে গণেশ পুজো হচ্ছে। তাঁদের থিম ‘শঙ্কর মন্দির’। থার্মোকল ব্যবহার করে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। এছাড়া মণ্ডপের পাশে মেলা বসেছে। সেই মেলাতেই এসেছে সার্কাস। অন্যদিকে, ওই এলাকাতেই ববলি বয়েজ ক্লাব পাতার মণ্ডপ করেছে। রাতে সেই পুজো মণ্ডপেও ভিড়। এছাড়া জুনিয়র গণেশ ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে গণেশ পুজোর থিম থাইল্যান্ডের ‘ব্লু টেম্পল’। জুয়াড়ি চক ক্লাব গণেশ ঠাকুরের ১০টি রূপ তুলে ধরেছে। তাদের মণ্ডপটি হাতির মাথার আদলে। এই ক্লাবের সদস্য তারকেশ্বর রাও বলেন, ঠাকুরের ১০টি রূপ মানুষ দেখতে পাবেন। ক্লাবের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে পুজোর আয়োজন করেছেন। এদিন খড়গপুর শহরের গণেশ পুজো দেখতে এসেছিলেন ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক সমীর দাস। তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় ভালো ভালো পুজো হয়েছে। নতুন অভিজ্ঞতা হল। খড়গপুর শহরে ফুচকা বিক্রি করছিলেন সূরয কুমার। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর বৃষ্টি না হলে বিক্রি আরও বাড়বে। একদিকে দুর্গাপুজোর কেনাকাটি সারতে মানুষ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন, অপরদিকে গণেশ পুজোর জন্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। এতে বিক্রি বাড়ছে।

Advertisement

(খড়্গপুর সাইন স্টার বয়েজ ক্লাবের গণেশ পুজোয় ৩০১ কেজির লাড্ডু।-নিজস্ব চিত্র)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ