Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচের দায়িত্বে গম্ভীরই

এক বছরের ব্যবধানে দুটো হোয়াইটওয়াশ। তার জেরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা অনিশ্চিত। এতকিছুর পরেও কোচ গৌতম গম্ভীরের চাকরি যাচ্ছে না। বহাল তবিয়তেই আছেন তিনি, থাকবেনও। কারণ, বোর্ড কর্তা বলছেন, ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ বদলের সম্ভাবনা নেই।

টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচের দায়িত্বে গম্ভীরই
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: এক বছরের ব্যবধানে দুটো হোয়াইটওয়াশ। তার জেরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা অনিশ্চিত। এতকিছুর পরেও কোচ গৌতম গম্ভীরের চাকরি যাচ্ছে না। বহাল তবিয়তেই আছেন তিনি, থাকবেনও। কারণ, বোর্ড কর্তা বলছেন, ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ বদলের সম্ভাবনা নেই।

Advertisement

গম্ভীর নিজেও সেটা জানতেন। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ধবল-ধোলাইয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, আমার ভবিষ্যৎ ঠিক করবে বোর্ড। অর্থাৎ বল বিসিসিআইয়ের কোর্টে তিনি ঠেলে দিয়েছিলেন। গম্ভীর জানতেন, বিসিসিআইয়ের শীর্ষপদে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা আদতে ঠুঁটো জগন্নাথ। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। যা করার তো তিনিই করবেন! মানে, মিঃ জয় শাহ। আইসিসি থেকে বিসিসিআই— বাবার দৌলতে সবই এখন চলে তাঁর অঙ্গুলিহেলনে। কে থাকবেন, কে যাবেন, তিনিই ঠিক করেন। জয়বাবুই এখন ক্রিকেটের বিশ্বগুরু। কোনও ইন্টারভিউ ছাড়াই তিনি গম্ভীরকে কোচের হটসিটে বসিয়েছিলেন। আসলে গেরুয়া বসন গায়ে চাপালে লোভনীয় চাকরির জন্য ইন্টারভিউ নিষ্প্রয়োজন। গম্ভীরও তা দেননি। সটান রাহুল দ্রাবিড়ের ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা গলিয়ে ছিলেন। কিন্তু নিজের মতো করে দল সাজাতে গিয়ে বেছে বেছে সিনিয়রদের তাড়িয়েছেন তিনি। রোহিত শর্মা, অশ্বিনদের বাধ্য করা হয়েছিল লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াতে। দেওয়াল লিখন পড়তে পেরে টেস্ট ক্রিকেটকে আলবিদা জানান বিরাট কোহলিও। অথচ যেরকম ফিট তিনি, তাতে আরও বছর দুয়েক অনায়াসেই খেলে দিতে পারেন। কিন্তু কোহলি বুঝে গিয়েছিলেন, সম্মানের সঙ্গে আপোস করে টেস্ট খেলার কোনও প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ সিনিয়রদের ধাপে ধাপে ছুটি। জায়গায় ভরাট করতে সাই সুদর্শন, দেবদূত পাদিক্কাল, ধ্রুব জুরেল, নীতীশ রেড্ডির মতো মধ্যমানের প্লেয়ারদের তুলে আনা। গম্ভীর বরাবরই চেয়েছেন, দলে সকলেই হবেন তাঁর ইয়েসম্যান। কিন্তু এটা তিনি বুঝতে পারেননি, সজনে ডাঁটা দিয়ে বিরিয়ানি রাঁধা যায় না। অগত্যা যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ঘরের মাঠেও একের পর এক সিরিজে চুনকামের লজ্জায় ডুবছে গম্ভীর ব্রিগেড। তাতেও কোচের কোনও দায় নেই। সামান্যতম লজ্জা থাকলে তিনি নিজেই সরে দাঁড়াতেন।
গম্ভীরের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি ২০২৭ পর্যন্ত। তবে এতদিন চাকরি টিকবে কিনা বলা কঠিন। পরের বছর টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়া খারাপ পারফর্ম করলে বুকে পাথর চেপে গম্ভীরকে বিদায় জানাতে হতে পারে জয়বাবুকে। একই সঙ্গে ছুটি দেওয়া হতে পারে নির্বাচক প্রধান অজিত আগকরকেও। কারণ, শুধু দেশবাসীর ক্ষোভ নয়, দল নির্বাচন নিয়ে বিরক্ত ক্রিকেটাররাও। আপাতত ক্ষোভ প্রশমিত করাই লক্ষ্য বোর্ডের। তাই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর ও টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। যদিও এ সবই লোক দেখানো। নিউজিল্যান্ডের কাছে ধবল-ধোলাইয়ের পরেও তো টনক নড়েনি।

সম্পর্কিত সংবাদ