Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চাকরি বাতিলে কমেছে লোকবল, ২২ এপ্রিল সুপ্রিম শুনানির আগে চাপে ডিএ আন্দোলন

ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক এবং সংগঠনগত বিবাদে রাজ্যে ডিএ বিরোধী আন্দোলন আগেই দুর্বল হয়েছিল।

চাকরি বাতিলে কমেছে লোকবল, ২২ এপ্রিল সুপ্রিম শুনানির আগে চাপে ডিএ আন্দোলন
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক এবং সংগঠনগত বিবাদে রাজ্যে ডিএ বিরোধী আন্দোলন আগেই দুর্বল হয়েছিল। তার উপরে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই আন্দোলন কার্যত ‘আইসিইউ’তে। ডিএ’র দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এখন চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল। তাই ডিএ’র দাবি এখন মাথাতেই নেই তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ২২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টেই তিন বিচারপতির বেঞ্চে ডিএ মামলাটি ওঠার সম্ভাবনা। ২১ এপ্রিল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পাড়ি দিচ্ছেন দিল্লিতে।

Advertisement

যে কোনও সরকারি বিভাগের চেয়েই শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। তাই ডিএ আন্দোলনেও শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল সর্বাধিক। ২০১৬ এসএলএসটিতে নিযুক্ত শিক্ষক এবং আরএলএসটিতে নিযুক্ত শিক্ষাকর্মীরাও ভরপুর উদ্যমে এই আন্দোলনে সামিল ছিলেন। তবে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লোক জোটাতেই চিন্তায় আন্দোলনকারীরা। এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে গড়ে ওঠা যৌথসংগ্রামী মঞ্চ। তাতে বিভিন্ন কারণে ফাটল আগেই ধরেছিল। বহু সংগঠন ইতিমধ্যেই সরে গিয়েছে। মঞ্চ থেকে আগেই বেরিয়ে যাওয়া একটি শিক্ষক সংগঠনের নেতা কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘নেতৃত্বের একাংশের ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতা, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ধামাধরা হয়ে পড়া সহ বিভিন্ন কারণ ছিল। সেই কারণেই অনেকে সরে আসে। অনেক সংগঠনকে মঞ্চই বের করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবার এই আন্দোলন আরও দুর্বল হল।’
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকদের সংগঠন এপিজিটিডব্লুএ-র সম্পাদক তথা যৌথমঞ্চের অন্যতম নেতা চন্দন গরাইও স্বীকার করে নেন, কর্মসূচি নেওয়ার ক্ষেত্রে লোকবলের অভাব একটা সমস্যা হবে। যদিও, এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তিনি যোগ করেন, সংগ্রামী যৌথমঞ্চ চাকরিহারাদের পাশে আইনিভাবে রয়েছে। তাই তাঁদের লড়াই মঞ্চেরও লড়াই। মঞ্চের আহ্বায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ইউইউপিটিডব্লুএ-র সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ আন্দোলন নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘শহিদ মিনারে আমাদের বিক্ষোভ অবস্থান ৮১৩ দিনে পা দিল। ২১ এপ্রিল আমি সহ মঞ্চের কয়েকজন দিল্লি যাচ্ছি শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য। আইনি লড়াই এবং আন্দোলন একইভাবে চলবে।’ তাঁর যুক্তি, ১০০০ জন পিটিশনারের মধ্যে ২০১৬ এসএলএসটিতে প্রথম দু’টি কাউন্সেলিংয়ে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদেরই রাখা হয়েছে আইনি জটিলতা এড়াতে। এছাড়াও, সদস্যরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে রয়েছেন। যদিও অন্দরের খবর, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা চাকরির নিশ্চয়তা নেই বলে স্কুলেই যোগ দিচ্ছেন না। তাই ডিএ আন্দোলন নিয়ে মাথা ঘামানোর অবকাশ তাঁদের আপাতত নেই। তবে, দু’টি আন্দোলনের কেন্দ্রই শহিদ মিনার হওয়ায় সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে দু’পক্ষেরই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ