


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এক ঝাঁক নতুন প্রার্থীকে ভোটের ময়দানে নামিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাতে চমক ছাড়াও কিছু অপ্র্যাতাশিত নামও রয়েছে। তবে এবারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম চমক হল কুলপির প্রার্থী বর্ণালী ধাড়া। বছর খানেক আগে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য নানা কাজ করে জিতে নিয়েছিলেন এই সম্মান। আর এবার তাঁকেই ভোটের ময়দানে দাঁড় করিয়ে দিল ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, রায়দিঘিতে এক অবসপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষককে নিয়ে আসা হল ভোটের আঙিনায়। এই দুই কেন্দ্রে কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, এরা শাসক দলের প্রার্থী হতে চলেছেন। সব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হতেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন তাঁরা। অন্যদিকে, হতাশায় ডুব দিলেন নাম বাদ পড়া বিদায়ী বিধায়করা।
সব মিলিয়ে এবার ১০টি আসনে নতুন প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। বাসন্তী থেকে প্রার্থী করা হয়েছে জেলা সভাধিপতি নিলীমা মিস্ত্রি বিশালকে। এটা বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। বাদ পড়লেন দীর্ঘদিনের বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। মগরাহাট পূর্বে প্রার্থী করা হয়েছে এক উপপ্রধানকে। নাম শর্মিষ্ঠা পুরকাইত। তিনি মগরাহাট পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি। আর মগরাহাট পশ্চিমে প্রাক্তন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লার জায়গায় টিকিট পেয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের পর্যবেক্ষক শামিম আহমেদ। সাতগাছিয়া বিধানসভাতে মোহন নস্করকে এবার টিকিট দেয়নি দল। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সোমাশ্রী বেতালকে। বাদ পড়েছেন ফলতা, মহেশতলা, বেহালা পূর্ব বিধানসভার বিধায়করাও। তাঁদের জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে যথাক্রমে জাহাঙ্গীর খান, শুভাশিস দাস এবং শুভাশিস চক্রবর্তীকে। অনেক নাটকীয়তা ও জল্পনার পর সোনারপুর দক্ষিণ থেকে দ্বিতীয়বারের জন্য টিকিট পেলেন লাভলি মৈত্র। এদিকে, ভাঙড়ে শওকত মোল্লাকে সরিয়ে আনায় ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী হলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম।
প্রথমবার রাজনীতির ময়দানে নেমে প্রার্থী হয়ে বর্ণালীদেবী বলেন, মানুষের সঙ্গে কাজ করব, সমাজের হয়ে কাজ করব বলেই প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি। রায়দিঘির সহচরী বিহারি বিদ্যাপীঠ স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তাপস মণ্ডল জানান, আজ, বুধবার থেকে প্রচারে নামব। এদিন কর্মীদের নিয়ে বৈঠকও করেন তিনি। পাশাপাশি ডাঃ অলোক জলদাতার পরামর্শ নেবেন। এদিক, বাকি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হতেই, তাঁদের অনুগামীরা আনন্দে ফেটে পড়েন। শুরু হয়ে যায় দেওয়াল লিখন। বারুইপুর পূর্বের বিভাস সর্দার, বারুইপুর পশ্চিমের বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্যানিং পশ্চিমের পরেশরাম দাস সহ বাকিরা প্রচারের প্রস্তুতি শুরু করে দেন। কুলপির তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী ধাড়া।-নিজস্ব চিত্র