লোটাস টেম্পল থেকে স্বর্ণবাসর, শুদ্ধি  ও আলপনার নানা সাজে থিমের মণ্ডপ
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: গঙ্গাতীরের এক টুকরো হরিদ্বার। সেখানে গঙ্গারতি করবেন বারাণসীর পণ্ডিতরা। জলে ভাসবে হাজার হাজার মঙ্গলদ্বীপ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়বে লোটাস টেম্পল। কোথাও আবার ফুটে উঠবে শ্রীকৃষ্ণের দশাবতার, কোথাও জগজ্জননী আসবেন স্বর্ণবাসরে। বাঙালির কৃষ্টি হিসাবে কোথাও আবার ফুটবে আলপনার মোহময়ী সৃষ্টি। 

Advertisement

বরানগর লোল্যান্ডের পুজোর এবার ৩৮ বছর। বিশালাকার জলাশয়ের পাশে ফি বছর নতুন নতুন চমক নিয়ে হাজির হয় এই পুজো কমিটি। এবার তাদের থিম ‘এক টুকরো হরিদ্বার’। বিশাল জলাশয়ের পাশে নির্মিত হচ্ছে এই মন্দিরশহর। রাস্তার দুদিকে একের পর এক মন্দির। কোথাও উঁকি দেবে হোটেল। তার পাশে ফুল ও প্রসাদের ডালাও থাকবে। দুদিকের শিব ও গঙ্গামায়ের অপরূপ কারুকাজের মন্দির দেখতে দেখতে দর্শনার্থীরা পৌঁছে যাবেন দুর্গামণ্ডপে। সেখানে প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের আদলে তৈরি সূক্ষ্ম কারুকাজ দর্শনার্থীদের জন্য বড়ো চমক। মা আসবেন প্রাচীন রূপে। 
তবে শুধু হরিদ্বারের মন্দির দর্শন করলে তো আর মনের সাধ মেটে না। সেই ভাবনা থেকে মন্দির লাগোয়া জলাশয়ের পাড়ে তৈরি করা হয়েছে গঙ্গারতির ঘাট। সেখানে বারাণসী থেকে আগত পণ্ডিতরাই আরতি করবেন। পুকুরপাড়ে দুই স্তরে জ্বলবে প্রদীপ। প্রতিদিন বিশাল জলাশয়ে ভাসানো হবে দেড় হাজার প্রদীপ। সাতটি নৌকা ঘুরে বেড়াবে।
পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা দিলীপনারায়ণ বসু (সনু) বলেন, আমাদের পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিধায়ক সজল ঘোষ। পুজোর সভাপতি নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের ভাবনা মেনেই আমরা ফুটিয়ে তুলছি এক টুকরো হরিদ্বার। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ২টো পর্যন্ত গঙ্গারতি দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। 
অন্যদিকে, বরানগর বন্ধুদল স্পোর্টিং ক্লাবের থিম লোটাস টেম্পল। বিশালাকার পদ্মের পাপড়ির মধ্যে মায়ের মণ্ডপ। মা আসবেন প্রাচীন সাজে। দর্শনার্থীদের বিস্ময় জাগাবে মণ্ডপের মধ্যে ২০ ফুটের ঝাড়বাতি। কর্মী সংঘ ক্লাব পরিচালিত নৈনান পাড়া ও যোগেন্দ্র বসাক রোড সর্বজনীন দুর্গোৎসবের এবার ৭৫ বছর। তাঁদের থিম স্বর্ণবাসর। কাল্পনিক মন্দির দেখে মনে হবে সোনায় নির্মিত! এখানেও সজ্জায় থিমের গুরুত্ব। পুজো কমিটির সম্পাদক অরূপ ভট্টাচার্য বলেন, মণ্ডপসজ্জা ও মায়ের রূপে মুগ্ধ হবেন দর্শনার্থীরা। 
বনহুগলির মাতৃমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসবের শতবর্ষের থিম ‘শুদ্ধি’। আত্মার শুদ্ধিকরণের বার্তা দিয়ে মণ্ডপ সেজে উঠবে শ্রীকৃষ্ণের দশাবতারে। প্রাচীন মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ সাজছে ধুনুচি, প্রদীপ, কোশাকুশিসহ নানা মাঙ্গলিক সরঞ্জামে। পুজো কমিটির সভাপতি সুধাংশু আওন (কমল) বলেন, মাঙ্গলিক মণ্ডপের আবহ ও মায়ের সাবেকি রূপ টেক্কা দেবে বাকি পুজো কমিটিকে। সিঁথি অগ্রগামী সংঘের থিম ‘আলপনার একাল সেকাল’। বিভিন্ন ধরনের আলপনা চমক দেবে দর্শনার্থীদের। বর্ণময় আলপনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের রূপও। মা আসবেন প্রাচীন সাজে।