


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা; পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকার প্রকল্পগুলি যথাযথভাবে রূপায়ণের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশ (এসওপি) তৈরি করল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। টেন্ডার ডাকা থেকে কাজের বরাত দেওয়া, প্রকল্প রূপায়ণ এবং অর্থ খরচ মিলিয়ে নানারকম নির্দেশ তাতে রয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েতকে সেটা মেনেই যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে। পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, এর অন্যথা হলে ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতকে। সব জেলায় এই এসওপি আগামী সপ্তাহেই পৌঁছে যাবে।
দপ্তরের মতে, অনেক ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতগুলি সময়মতো টেন্ডার ডাকে না। অর্থ খরচেও তাদের ঢিলেমি থাকে। অর্থ কমিশনের টাকা খরচের হিসেবেও সার্বিকভাবে এর প্রভাব লক্ষ করা যায়। কিছু পঞ্চায়েত আবার নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্পে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ফেলে। তাদের কিছু কাজ নিয়ে মামলা-মকদ্দমা পর্যন্ত হয়। এতে অস্বস্তিতে পড়ছে খোদ দপ্তরই। এসব এড়াতেই পঞ্চায়েতগুলিকে বস্তুত সতর্ক করা হচ্ছে। অভিমত আধিকারিকদের।
এসওপিতে বলা হয়েছে, টেন্ডার প্রস্তুতির কাজ অনেক আগেই সেরে রাখতে হবে। ‘কোনও কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যেতে পারে’—এমন একটি নয়া শর্তও যোগ করতে হবে তাতে। একটি অর্থবর্ষের মধ্যেই যাবতীয় কাজ শেষ করার কথা মাথায় রেখেই পঞ্চায়েতগুলিকে প্রকল্প সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিতে হবে। জোর দিতে হবে কাজ ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে শেষ করার উপর। সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিপুল খরচ করা চলবে না।
টেন্ডার বাতিল নিয়েও রয়েছে একাধিক নির্দেশ। যেমন—একটি পঞ্চায়েত ইচ্ছেমতো তা বাতিল করতে পারবে না। কমিটি গঠন করেই টেন্ডার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাতে এসডিও, বিডিও এবং সংশ্লিষ্ট মহকুমার অন্য এক অফিসার থাকবেন।
গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্মের উপর নিরন্তর খোঁজখবর এবং নজরদারি রাখতে ডিএম, এডিএম এবং বিডিওদের অতিসক্রিয়তা দাবি করা হয়েছে। এক অফিসার বলেন, অর্থ কমিশনের টাকা খরচ নিয়ে রাজ্যের তরফে এই প্রথম এসওপি তৈরি করা হল। এর মাধ্যমে পঞ্চায়েতগুলিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সম্ভব হবে। গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নে যথাসম্ভব খরচ করাই দপ্তরের মূল লক্ষ্য। তাই সেটা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পঞ্চায়েতকে নিয়মগুলি মেনেই চলতে হবে।