Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লন্ডনের স্বামীনারায়ণ মন্দির থেকে রাজমহল, থিমের বাহার হুগলিতে

পুজোর মরশুমে আবেগ আর আনন্দের পরিসরকে বাড়িয়ে তোলাই লক্ষ্য। প্রকৃতি সেজে ওঠে মনোরম সাজে। তার রং গিয়ে লাগে নাগরিক মননে। নতুন পোশাক থেকে নিত্য নতুন থিমের মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জা বহন করে তারই ধারাকথন।

লন্ডনের স্বামীনারায়ণ মন্দির থেকে রাজমহল, থিমের বাহার হুগলিতে
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী , চুঁচুড়া: পুজোর মরশুমে আবেগ আর আনন্দের পরিসরকে বাড়িয়ে তোলাই লক্ষ্য। প্রকৃতি সেজে ওঠে মনোরম সাজে। তার রং গিয়ে লাগে নাগরিক মননে। নতুন পোশাক থেকে নিত্য নতুন থিমের মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জা বহন করে তারই ধারাকথন। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর— পুজো মরশুমে যেন সত্যি হয়ে ওঠে। তবে তার আকার খানিকটা পাল্টে বলা যায়, থিমে মিলায় উৎসবের আনন্দ, তর্কে বহুদূর। এবারের পুজো মরশুমের হুগলিতে অন্তত এই কথনের একগুচ্ছ প্রমাণ মিলেছে।

Advertisement

স্বামীনারায়ণ মন্দিরের সঙ্গে দেবী দুর্গার সম্পর্ক কতখানি? না, থিমের পুজোয় এমন প্রশ্ন নেহাতই অবান্তর। বরং তার থেকে অনেক বেশি উপাদেয়, হাতের কাছে লন্ডনের স্বামীনারায়ণ মন্দিরের অপূর্ব স্থাপত্যের একটি চেহারা পাওয়া। এই থিমকেই আশ্রয় করেছে হুগলির বলাগড়ের জিরাটের আদি বারোয়ারি। তাদের সাবেকি সাজের প্রতিমা স্বামীনারায়ণ মন্দিরের চাতালেই দেখা যাবে। ফোম আর ফাইবারের কাঠামো দিয়ে নয়নাভিরাম স্থাপত্যের অনুকরণে সেজে উঠছে এই মন্দির। চওড়ায় ১২০ ফুট চওড়া এবং লম্বায় ৯০ ফুট। জিরাট আদি বারোয়ারির শারদীয়া উৎসবের এবার ৭৫ বছর পূর্তি। অভিনব আলোকসজ্জার সঙ্গে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য রাখা হচ্ছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। ফলে পুজোর প্রাক্কালেই আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে প্রত্যন্ত জিরাটের এই পুজো মণ্ডপ। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা কুণাল ঘোষ বলেন, এবার আমরা রাজকীয় আয়োজন করছি। কয়েক বছর ধরেই আমাদের পুজো নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শনার্থীদের। তা ধরে রাখতে আমরা আন্তরিক। 
জিরাটের মতোই চারদিনের মায়াময় চাঁদনি আলোর বাসর সাজিয়ে বসছে চুঁচুড়ার বড়বাগান সর্বজনীন। ক্লাবের থিম, ‘মায়ের অন্দরমহল’। দেবী দশভুজা নিজেই প্রকৃতি। প্রকৃতির যাবতীয় সৌন্দর্য, সম্পদ, বৈভব, বিত্ত তাঁরই। তিনি রাজরাজেশ্বরী আবারও মমতাময়ী মা। তাই মায়ের আরাধনায় রাজমহল সাজিয়ে বসেছেন ক্লাবকর্তারা। আকর্ষণীয় এক রাজমহলের দালানে প্রতিষ্ঠা করা হবে দেবীকে। মৃণ্ময়ী দেবী থাকবেন একচালার গড়নে। থাকবে সাবেক কালের বিপুল ডাকের সাজ। রাজমহলকে জমকালো করতে যেমন নানা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তেমনই রাখা হচ্ছে মানানসই আলো। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সঞ্জীব দাস বলেন, জগজ্জননীর অন্দরমহলে সবই থাকে। সেটাকেই আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি।
বিষয়টি আসলে সেই ‘তর্কে বহুদূর’। শিউলি ফুল ইতিমধ্যেই সুগন্ধ ছড়িয়ে শহর থেকে গ্রামে দেবী আবাহনের কার্পেট বিছিয়ে দিতে শুরু করেছে। তাই যুক্তি নয়, বাঙালির সেরা উৎসবে চারদিনের মুক্ত আনন্দই নাম ভূমিকায়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ