নয়াদিল্লি: দীর্ঘ আন্দোলন, অনশন ও ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভের কাছে মাথা নত করেছে সরকার। লক্ষ্য পূরণ হয়েছে ককরোচদের। এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন প্রহ্লাদ যোশি। রবিবার দিল্লির কর্তব্য ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। পরের দিকে মন্ত্রকের সচিব ও আধিকাররিকদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন নয়া শিক্ষামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নতুন দপ্তরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এরইমাঝে একের পর এক পুরানো ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, গুজরাতে বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন প্রহ্লাদ যোশি। তিনি বলেছিলেন, এর মধ্যে কোনো ভুল নেই। যা হয়েছে, আইন মেনেই হয়েছে। জেলে থাকার পর আসামিদের ভালো আচরণের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। ২০২৪ সালে বিজেপির টিকিট পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে প্রহ্লাদ যোশির ভাই গোপাল যোশি ও ভাইপো অজয় যোশির বিরুদ্ধে। সেইসময় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এর জেরে বিপাকে পড়েন প্রহ্লাদ। বহুদিন আগে থেকেই কোনো সম্পর্ক নেই বলে কোনোরকমে দায়ভার ঝেড়ে ফেলেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কিন্তু এমন একজন মানুষকে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? এবার সেই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছে বিরোধীদের একাংশ।
শুরুতে আরএসএস। পরে কর্ণাটক বিজেপির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন প্রহ্লাদ। ১৯৯৪ সালের হুব্বলির ইদগাহ ময়দান আন্দোলন তাঁকে পরিচিতি দেয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পার দল ছাড়ার পর ২০১৩ সালে বিজেপির সংকটে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। একের পর এক মন্ত্রক সামলানোর পাশাপাশি ২০২৪ সালে কৃষক আন্দোলনের সময় মধ্যস্থতাকারী হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। গেরুয়া শিবিরের অন্দরে অনেকে তাঁকে ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ বলে ডাকেন। উদ্ধবপন্থী শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেছেন, প্রহ্লাদ যোশি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রী। তাঁকে সরিয়ে শীঘ্রই শিক্ষামন্ত্রীর পদে বসবেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।