সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: শহরতলির পুজোয় এবার নজর কাড়তে তৈরি জয়নগর। জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ন’য়ের পল্লি উন্নয়ন সমিতির পুজো এবার ৭৫ বছরে পড়েছে। এই পুজোর থিম ‘চিরন্তন’। কয়েকশো পুরনো গানের ক্যাসেট, গ্রামাফোনের রেকর্ড, পুরনো রেডিও দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। ভিতরের সিলিংয়ে থাকছে পিয়ানো। চারপাশে বিখ্যাত সংগীত শিল্পীদের আঁকা ছবি। ক্যাসেট দিয়ে বানানো হয়েছে লণ্ঠন। পুজো কমিটির কর্তা সায়ন বটব্যাল ও দেবব্রত চক্রবর্তী বলেন, আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের শিল্পীদের সম্মান জানাতেই এই থিম করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জয়নগরের জয়চণ্ডীতলা সর্বজনীনের পুজো এবার ৩২ বছরে পড়েছে। সিকিমের রাভাংলা, বুদ্ধ পার্কের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। থাকবে ১৬ ফুটের বুদ্ধ মূর্তি। প্রতিমা হবে তিব্বতি আদলে। তবে মা দুর্গার হাতে কোনও অস্ত্র থাকছে না। নেই বাহনও। পুজো কমিটির কর্তা চন্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন, এবারের থিম ‘পরিব্রজা’। শান্তির প্রতীক বুদ্ধ। তাঁকেই তুলে ধরা হয়েছে।
জয়নগরের তিলিপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো এবার ২৮ বছরে পড়ল। তাদের থিম ‘স্ব-দেশ দ্বেশ নয়, মনে দেশ স্ব-অধীন’। পুজো কমিটির সভাপতি চিন্ময় দে বলেন, ২০০২ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সংঘর্ষ, যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও তাঁদের বীরগাথাকে থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পুলওয়ামা, রাফাল, বায়ুসেনার রানওয়ে, অপারেশন সিন্দুরের দুই কাণ্ডারি উইং কমান্ডার ভূমিকা সিং ও কর্নেল সোফিয়া কুরেশির অবদানকে সম্মান জানিয়ে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ।
জয়নগর গহেরপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর এবার ৩৫ বছর। কমিটির কর্তা প্রতাপ নাইয়া বলেন, আমাদের থিম— ‘কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।’ হীরক রাজার দেশে যন্তর মন্তর, রাজার দরবার, গুপী গাইন, বাঘা বাইন, ভূতের রাজার বরদান, সবই স্থান পেয়েছে পুজো-ভাবনায়। এখানে দড়ি ধরে মহিষাসুরকে টেনে নামানো হবে। গহেরপুর মিলন সমিতির পুজোর এবার ৭৩ বছর। পুজো কমিটির কর্তা সৌভিক বিশ্বাস বলেন, রাজস্থানের লোকসংস্কৃতির আদলে পুজো মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মজিলপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি করছে মণ্ডপ। জয়নগর মিত্রপাড়া সর্বজনীন পুজো কমিটির মাদুর, হোগলা পাতার মণ্ডপে মা আসবেন সাবেকি সাজে।