


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এক ফোনেই হচ্ছে মুশকিল আসান! মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা থেকে বকেয়া মজুরি পাওয়া, গ্রামের কাঁচা রাস্তা পাকা করা বা বাঁশের সাঁকো মেরামতি—বহু সমস্যার সমাধান মিলেছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের অভিযোগ জানানোর পোর্টালে গত চার বছরে সাড়ে ১৪ হাজার অভিযোগ এসেছিল। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজারের বেশি সমস্যার। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত দপ্তরের নানা প্রকল্প সংক্রান্ত অভাব-অভিযোগ নিয়ে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’-তে ২০ লক্ষের বেশি অভিযোগ এসেছিল গত তিন বছরে। তার মধ্যেও অধিকাংশ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন বহু মানুষ। পঞ্চায়েত দপ্তর প্রকাশিত অভিযোগ নিষ্পত্তি পুস্তিকায় উঠে এসেছে এই তথ্য।
কোন ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে? হুগলির খানাকুল ২ নং ব্লকের মরোখানা ওয়েস্ট প্রাইমারি স্কুলের পাশে (১১ নম্বর বুথ) একটি জীর্ণ বাঁশের সাঁকো ছিল। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছিল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষকে। কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছিলেন। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পঞ্চায়েত দপ্তরের পোর্টালে অভিযোগ আসতেই এক মাসের মধ্যে স্থানীয় পঞ্চায়েত সেই বেহাল সাঁকো মেরামতি করে দিয়েছে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ব্লকের ব্রজেন প্রামাণিক তাঁর পরিবার নিয়ে মাটির বাড়িতে দিন কাটাচ্ছিলেন। পাকা বাড়ির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও সুরাহা হচ্ছিল না। অবশেষে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ পোর্টালে ফোন করে দুর্দশার কথা জানাতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে প্রশাসন। সব যাচাই করে ব্রজেনবাবুকে পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট ব্লকের চকপাচুড়িয়া গ্রামের প্রায় ২০০০ বাসিন্দা ১০ বছর ধরে কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করছিলেন। তাঁরা ফোন করেই সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আবার, বারাকপুর ২ ব্লকের মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘদিন জমে থাকা নোংরা জলের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে এ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, স্থানীয় প্রশাসন মানুষের নানা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।
পঞ্চায়েত দপ্তরের পোর্টালে সব থেকে বেশি গ্রামীণ বাড়ি সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি করা গিয়েছে। এছাড়া রাস্তা, এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভাব-অভিযোগের নিষ্পত্তির সংখ্যাও অনেক। জেলাগুলির মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে পঞ্চায়েত দপ্তরের কাছে সব থেকে বেশি অভিযোগ এসেছিল। তারপরই রয়েছে মালদহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা।