সোহম কর, কলকাতা: ‘মারমেড কাট’ ‘বাটারফ্লাই কাট’ ‘উলফ কাট’। যদি মনে হয় প্রজাপতি বা নেকড়েকে কেটে ফেলার কথা হচ্ছে, ভুল হবে। এ ‘কাট’ হচ্ছে মাথার চুলের ছাঁট। ‘মৎসকন্যার মতো চুল চাই। মারমেড কাট করে দিন’-দোকানে এসে বলছেন তরুণীরা। দোকানদার থতমত। ব্যাগ থেকে ছবি বের করে দিচ্ছেন মেয়েরা। তা দেখে চুল কেটে দিচ্ছেন হেয়ার ড্রেসার। তারপর মৎসকন্যা দিব্যি রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছেন। এবার চোখ থতমত পথচারীদের। কোনও গল্পকথা নয়, এবছর পুজোর হেয়ার স্টাইলে মারমেড, উলফ, বাটারফ্লাই ছাঁটেরই রমরমা। ও হ্যাঁ, স্টাইলিস্টরা বলছেন, ‘উলফ কাটে চুল থাকবে ফেঁপে। বাটারফ্লাইয়ে চুল দেখতে লাগবে ঘন। যাঁরা চুল ওঠার সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের অন্যতম ভরসা নেকড়ে ছাঁট।
পুজোর কেনাকাটা প্রায় শেষ। কিন্তু ফ্যাশন মানে তো শুধু জামা-কাপড় আর নাকচাবি-দুল-গলার হার বা জুতো-ব্যাগ নয়, লাগবে মানানসই হেয়ার স্টাইলও। তাই শহরের বিউটি পার্লারগুলিতে পা ফেলার জায়গা নেই। সেখানকার হেয়ার ড্রেসাররা বলছেন, ‘পুজোর হেয়ার স্টাইলে এ বছর কোরিয়ার প্রভাব। বলিউড-হলিউডের নায়িকাদের এখন পিছনে ফেলে দিয়েছেন কোরিয়ান অভিনেত্রীরা। সৌজন্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কোরিয়ান পপ স্টার, ওটিটিতে দেখা কোরিয়ান সিরিয়াল।’ কিন্তু এ শহরের বহু হেয়ার ড্রেসার কোরিয়ান স্টাইল তেমনভাবে জানেন না। তাঁদের এসে তরুণীরা ছবি দেখাচ্ছেন। ড্রেসারদের বক্তব্য, ‘ছবি দেখে আমরা যেরকম চাইছেন সেরকম স্টাইল করে দিচ্ছি।’ হেয়ার স্টাইলিস্ট অ্যাগনেস অ্যাডলিন ডি’কস্টা বলেন, ‘তরুণীরা উলফ কাট, বাটারফ্লাই কাট বেশি করছেন। এগুলিতে চুল ঘন দেখায়। ফুলে থাকে। আগেকার মতো স্টেপ কাট এখন প্রায় নেই। তবে এই কাটগুলো স্টেপ কাটেরই রকমফের। দেখে মনে হয় চুল অনেক।’ এই বাটারফ্লাই, উলফ এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় খুব জনপ্রিয়। অনেকে অবশ্য কি করবেন ভেবে না পেয়ে এসে সোজা স্ট্রেটনিং করে ফেলছেন। তবে এখনও অনেকের পছন্দ ছোট বা বব কাট।’
পুরুষরা কি এ ফ্যাশনে পিছিয়ে? মোটেও না। পুরুষরা এ বছর মেতেছেন ভিন্ন রকমের স্পাইক কাটে। যেমন ‘টেক্সচার্ড ক্রপ’, ‘লেয়ার কাট’, ‘স্পাইক কাট’, ‘সাইড পার্ট’। কেশ বিশারদদের কথায়, ‘পুরুষ হোক বা মহিলা মুখের গড়নের উপর নির্ভর করে কোন চুলে কেমন ছাঁট মানাবে। পুরুষদের জন্য যেমন কান ও ঘাড়ের দু’পাশ দিয়ে ছোট করে কেটে মাঝখানের চুলগুলো একটু বড় রাখা হয়। এখন মোটামুটি এটাই অনেকে করছেন।’ তাই মুখের গড়ন অনুযায়ী, সঠিক হেয়ার স্টাইল বেছে নিলেই কিন্তু পুজোর সন্ধ্যায় পাড়ার প্যান্ডেলে সেলফি ভালো উঠবে। তাকাবে সবাই। সেই মানুষটিও আড়চোখে হলেও দেখবেন।