লোকালয় থেকে হাসপাতাল, সবই জলের তলায় বৃষ্টি থামলেও চূড়ান্ত দুর্ভোগ হাওড়ায়
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রবিবার রাত থেকে সোমবার দিনভর বৃষ্টিতে এমনিতেই বিপর্যস্ত হাওড়া। মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন করে বৃষ্টি না হলেও স্বস্তির বদলে শহরের বহু প্রান্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গত কয়েক দশকের জল যন্ত্রণার দুর্ভোগের ছবিটা। বেহাল নিকাশির কারণে কোথাও এতটুকু জল নামেনি, জমা জল ঢেউ খেলছে হাসপাতালের ভিতরে। দাসনগরের বালিটিকুরিতে পরিস্থিতি এমনই যে, বেশ কিছু পরিবার ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। একই অবস্থা বেলুড় ইএসআই হাসপাতালে। হাসপাতাল চত্বর থেকে ইমার্জেন্সি, আউটডোর, রান্নাঘর, স্টোররুম— সর্বত্র জল। ব্যাহত চিকিৎসা পরিষেবা, দুর্ভোগে রোগী থেকে চিকিৎসক। 

Advertisement

জল-যন্ত্রণা চরমে উঠেছে দাসনগরের ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর রামকৃষ্ণ কলোনি, জেলগেট ও ঢালাপাড়া এলাকায়। অলিগলি পেরিয়ে সেই জল ঢুকে পড়েছে বাড়ির ভিতরে। কোথাও হাঁটু সমান জল, তার নীচে বেহাল রাস্তা। ফলে চলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে জখম হচ্ছেন অনেকে। রাস্তাঘাটের এই চেহারায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত থমকে। অনেক বাড়ির দরজায় তালা ঝোলানো দেখে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা কঠিন। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না পাঁজা, সৌভিক শাসমল ও সুজিত গোলুইয়ের কথায়, এই পরিস্থিতিতে এলাকায় বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জল জমার সমস্যা থাকলেও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ হয়নি। ফলে প্রতিবারের মতো এবারও আগামী দু’মাস এভাবেই জলমগ্ন হয়ে থাকতে হবে। বাধ্য হয়ে বেশ কিছু পরিবার আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত নিকাশিনালা সংস্কার করে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
অন্যদিকে, বেলুড় ইএসআই হাসপাতালে জল না নামায় পরিষেবা স্বাভাবিক করা যায়নি এদিন। হাসপাতালের সহকারী সুপার ডাঃ জয়দীপ পাল জানান, হাসপাতালটি নীচু জায়গায় হওয়ায় আশপাশের জল এখানে এসে জমা হয়। পাম্প চালিয়ে জল বের করার চেষ্টা চলছে। এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি সহ কয়েকটি পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ছোটোখাটো অস্ত্রোপচারও করা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে এই পরিস্থিতি বলে তিনি জানান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। শুধু শহর নয়, বালি-জগাছা ব্লকের সাঁপুইপাড়া পঞ্চায়েতের পশ্চিম শান্তিনগরেও জল-যন্ত্রণা চরমে। কোথাও হাঁটুর বেশি, কোথাও কোমর ছুঁইছুঁই। চলাচলের জন্য ভেলা বানিয়েছেন বাসিন্দারা। ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছে দুর্গন্ধযুক্ত পচা জল। ফলে সংসার উঠেছে খাটের উপর। সেই খাটেই কোনোরকমে খাওয়া-দাওয়া চলছে। পানীয় জল নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েতকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। নতুন সরকারের কাছে এখন তাঁদের একটাই দাবি, স্থায়ী নিকাশির ব্যবস্থা করে জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিন।