রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ফুলকো লুচি দিয়ে শুরু। শেষ পাতে মিষ্টি পান। মধ্যিখানে বেগুন সুন্দরী, পটলের দোরমা, গলদাচিংড়ির মালাইকারি, ভেটকি পাতুরি, পাঁঠার কষা, গন্ধরাজ স্যালাড, মাছের পাঁপড়, আমের চাটনি, তালশাঁস সন্দেশ, পান্তুয়া, মিষ্টি দই। সঙ্গে আছে পাকা আম। পাত পেড়ে এসব খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য সরকারের পর্যটন উন্নয়ন নিগম। উপলক্ষ জামাইষষ্ঠীতে বাঙালিয়ানার মোড়কে ‘জামাই আদর’।
পয়লা জুন জামাইষষ্ঠী। ওই দিনটি এবছর রবিবার হওয়ায় বাড়তি সংযোজন, ছুটির দিনে চুটিয়ে খাওয়া। শহরের নামী রেস্তরাঁগুলি এই উৎসব উপলক্ষ্যে প্যাকেজ সিস্টেমে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে। রাজসিক ভোজ থালি নিয়ে হাজির রেস্তরাঁগুলি। কেউ বলছে, জামাই মানে রাজা। তাই রাজসিক ভোজ। আবার কোনও রেস্তরাঁ বলছে, মোরা সবাই রাজার জামাই। তাই ষষ্ঠীর ভোজ থালিতে কে কাকে টেক্কা দেবে তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। বাহারি নানা পদের সম্ভার নিয়ে সকলেই চাইছে রেস্তরাঁয় ভোজন রসিকদের টেনে আনতে। আর এই এখানেই সেরা থালি দিয়ে ‘ফুড-পাতে’ ছক্কা হাঁকানোর উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম। তারা সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৩১ মে ও এক জুন দু’দিনব্যাপী জামাইআদর অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। শিলিগুড়ি, বোলপুর, বিধাননগর ও দিঘা, এই চার জায়গায় দুপুর ও রাতে ঢালাও ভুরিভোজের ব্যবস্থা। জনপ্রতি খরচ এক হাজার ৯৯ টাকা (ট্যাক্স সহ)। আয়োজকদের তরফে বলা হয়েছে, জামাইষষ্ঠীতে ‘জামাই আদর’য়ের মাধ্যমে বাঙালি ঐতিহ্যের আন্তরিকতা উদযাপন করা হবে। জামাইষষ্ঠীর আনন্দ উপভোগ ও নিজস্ব সংস্কৃতিকে উদযাপন করার উৎসব। জগন্নাথ ধাম তৈরি হওয়ার পর থেকে দিঘায় পর্যটকদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। এবার জগন্নাথধাম দর্শনের ফাঁকে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের জামাইষষ্ঠীর আয়োজন সেরা আকর্ষণ হবে বলেই অনেকে মনে করছেন। তবে নামী রেস্তরাঁগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোজন রসিকদের কতটা নিজের দিকে টানা গেল তার পরিসংখ্যান মিলবে জামাইষষ্ঠী পেরনোর পর।