Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডানকুনি থেকে মগরা, উচ্ছেদ নোটিসে উদ্বেগ বাড়ছে হুগলিতে

হুগলিতে রেলের উচ্ছেদ নোটিসে উদ্বেগ বেড়েছে। ডানকুনি থেকে মগরা, প্রতিবাদে নামছে বামদলগুলি। বিস্তারিত জানুন।

ডানকুনি থেকে মগরা, উচ্ছেদ নোটিসে উদ্বেগ বাড়ছে হুগলিতে
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলাজুড়ে রেলের উচ্ছেদ নোটিস। তা ঘিরে কার্যত হাহাকার পড়ে গিয়েছে। ডানকুনি থেকে মগরা, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জুনে লাগাতার উচ্ছেদের ঘোষণা করেছে রেল। তারপর হকার থেকে শুরু করে রেলের জমিতে বসবাসকারীদের মধ্যে ছড়িয়েছে উদ্বেগ। কোথাও অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কোথাও প্রতিবাদে শুরু করতে চাইছে মানুষ। হুগলির বামদলগুলি এ নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে সেই আন্দোলনের ফলে জীবিকা বা বাসস্থান কতটা কি রক্ষা পাবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। রেল খুব স্পষ্ট করেই জানিয়েছে, জবরদখলের সমস্যা বহুবছরের। এবার তার স্থায়ী সমাধান হবে। 

Advertisement

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জুনের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে ডানকুনি, মগরা, হিন্দমোটর, কোন্নগর, শ্রীরামপুর সহ একগুচ্ছ স্টেশনে অভিযান চলবে। ইতিমধ্যেই এই সমস্ত এলাকায় নোটিস ঝুলিয়ে জমি ও দোকান খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদ্য উত্তরপাড়া স্টেশনে রেললাইনের দু’পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। একদিকের সামান্য অংশের মানুষকে একমাসের সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ জুনের শেষপর্বে উত্তরপাড়াতে ফের অভিযান হবে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি। সমস্ত বামদল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছে। ডানকুনি থেকে পাণ্ডুয়া, গোটা হুগলি জেলাজুড়েই ডবল ইঞ্জিনের সরকার ত্রাসের আবহ তৈরি করেছে। মানুষ ভয়াবহ উদ্বেগের মধ্যে আছে। এভাবে জীবন-জীবিকা বাজি রাখার ঘটনা সভ্যতার ইতিহাসে বেমানান।’ সিপিআই(এমএল) নেতা সৌরভ রায় বলেন, ‘উন্নয়ন তো মানুষের প্রয়োজনে। হাজার হাজার মানুষের চোখের জলে রেল কর্তৃপক্ষ বা সরকার কোন ধরনের উন্নয়ন করতে চাইছে আমরা জানি না। আমাদের আন্দোলন চলবে।’
অমৃতভারত প্রকল্প ঘোষণা করার পর হুগলিতে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছিল রেল। প্রায় একবছর ধরে ধারাবাহিকভাবে নোটিস, কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু এই প্রথম গোটা হুগলি জেলায় নিরবিচ্ছিন্ন এবং কঠোর অভিযানের পথে হাঁটছে রেল। হাওড়া-বর্ধমান, ডানকুনি থেকে সমস্ত শাখার সবকটি স্টেশনে উচ্ছেদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির সরকারে আসা রেলকে উৎসাহিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘সবগুলি স্টেশনেই পরিকাঠামোর উন্নতি হবে এমন নয়। কিন্তু এই জবরদখলের সমস্যা প্রায় ৫০-৬০ বছরের। এবার একবারে সব স্টেশনকে জবরদখল মুক্ত করতে চাইছেন রেলকর্তারা।’ 
রেলের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদও চলছে সমানতালে। বুধবার কোন্নগর স্টেশনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এসইউসিআই। সম্প্রতি ব্যান্ডেলে প্রতিবাদ আন্দোলনে এসেছিলেন বামনেত্রী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়। উত্তরপাড়াতে রাত জেগে প্রতিরোধ চালিয়েছিল একাধিক বামদল। তবে সেভাবে সাফল্য‌ ঩কোথাও মেলেনি। তাতেই বেড়েছে উদ্বেগ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বিভিন্ন রেল স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

সম্পর্কিত সংবাদ