নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোথাও পুকুরঘাট বাঁধানো হয়েছে। ফলে ফিরেছে পুকুরের আগের সৌন্দর্য। কোথাও আবার খুদে পড়ুয়ারা এখন বেঞ্চে বসে ক্লাস করছে। তাদের আগে মেঝেতেই বসতে হতো। এছাড়াও অসংখ্য রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ থেকে পথবাতি বসানো হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শহর থেকে গ্রাম– আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান (আপাস) প্রকল্পে নতুন করে সেজে উঠছে। সরকারি উদ্যোগে এমন বৃহৎ কর্মকাণ্ড যেন অনেক সমস্যার সমাধান করে দিল বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ।
তবে কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখনও ব্লকে ব্লকে নানা প্রকল্পের কাজ চলছে জোরকদমে। সোনারপুর থেকে সাগর, ভাঙড় থেকে বজবজ– আপাসের কাজে ভোল বদলেছে অনেক কিছুরই। যেমন বিষ্ণুপুর ১ ব্লকের কালমিখালি এফপি স্কুলের শিশুরা আগে মেঝেতে বসে ক্লাস করত। বিভিন্ন জায়গায় বেঞ্চের জন্য আবেদন করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানেও বিষয়টি জানানো হয়। তারপরই সরকারি উদ্যোগে ক্লাসে দেওয়া হল নতুন বেঞ্চ। এখন আর ঠান্ডায় মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হয় না খুদে শিক্ষার্থীদের। নতুন বেঞ্চ পেয়ে বেশ খুশি তারা।
এই ব্লকেরই কেওয়াপুকুরিয়া এলাকায় একটি পুকুর রয়েছে। সাধারণ মানুষ সেখানে স্নান করতে আসে। কিন্তু বহুদিন ধরে তার ঘাটটি ভাঙা অবস্থায় পড়েছিল। আপসে আবেদন আসতেই পুকুরের চারদিক বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্নানঘাটের জন্য সিঁড়ি, বসার জায়গা বানিয়ে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে পুকুরঘাটটিকে। এখন অনেকে পুকুরপাড়ে বসে আড্ডাও দিচ্ছেন। এছাড়া ভাঙড় ২ ব্লকের বামানঘাটা পঞ্চায়েত এলাকায় বসেছে সোলার প্যানেল যুক্ত পথবাতি। রাতে আর অন্ধকারে ডুবে থাকে না পাড়া। সাগরের মন্দিরতলা বিশালাক্ষ্মী মন্দিরের কাছে পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পার্ক। আপাস প্রকল্পের মাধ্যমে এই সুসজ্জিত পার্কটি গড়ে শিশুদের উপহার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আবেদনের ভিত্তিতে জেলার ৫২২টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সম্প্রসারণ, ৮৮৮টি পাম্প ও টিউবওয়েল বসানো সহ আরও অনেক কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে। নিজস্ব চিত্র