Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোধন থেকে বিজয়া, পেল্লাই চমচমে মাতে লাটাগুড়ি! পর্যটকদের পাতে দিতে আগাম বুকিং শুরু

বোধন থেকে বিজয়া। পেল্লাই চমচমে মাতে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি। এক পিস চমচমের ওজন ৮০০ গ্রাম। দাম তিনশো টাকা! তবে ৩০০ গ্রাম ওজনের চমচমও রয়েছে।

বোধন থেকে বিজয়া, পেল্লাই চমচমে মাতে লাটাগুড়ি! পর্যটকদের পাতে দিতে আগাম বুকিং শুরু
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২০:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বোধন থেকে বিজয়া। পেল্লাই চমচমে মাতে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি। এক পিস চমচমের ওজন ৮০০ গ্রাম। দাম তিনশো টাকা! তবে ৩০০ গ্রাম ওজনের চমচমও রয়েছে। সেগুলির দাম একশো টাকা। দু’শো টাকায় মেলে ৬০০ গ্রামের চমচম। বেলাকোবার চমচমের সঙ্গে টক্কর দিতে তৈরি হয় লাটাগুড়ির এই পেল্লাই চমচম। এটিকে ‘ফ্যামিলি প্যাক’ চমচমও বলা হয়। কারণ, একটি চমচম হলেই পরিবারের সবাই মিলে বেশ ভুরিভোজ করা যায়। পুজোয় ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা পর্যটকদের পাতে ওই চমচম তুলে দিতে আগাম বুকিং শুরু করে দিয়েছেন হোটেল ও রিসর্ট মালিকরা।

Advertisement

পেল্লাই চমচমের ঠিক কেমন অর্ডার আসছে? লাটাগুড়ির মিষ্টি বিক্রেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “পর্যটকদের কাছে বিশেষ করে কলকাতা থেকে যাঁরা ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে বেড়াতে আসেন, তাঁদের খুবই পছন্দের আমাদের তৈরি পেল্লাই চমচম। ১৬ সেপ্টেম্বর জঙ্গল খুলতেই পর্যটকরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন গোরুমারায়। অনেকেই বাড়ি ফেরার সময় পেল্লাই চমচম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া পর্যটকদের পাতে ওই চমচম দিতে হোটেল, রিসর্ট মালিকরাও আমাদের চমচম নিয়ে যাচ্ছেন।” 

তাঁর দাবি, পুজোর দিনগুলিতে ডুয়ার্সে প্রচুর পর্যটকের বুকিং রয়েছে। বিভিন্ন হোটেল, রিসর্ট মালিকরা পেল্লাই চমচমের আগাম বুকিং করে যাচ্ছেন।

বেলাকোবার চমচমকে টেক্কা দিতে ২০০৩ সালে প্রথম লাটাগুড়িতে তৈরি হয় পেল্লাই চমচম। ময়নাগুড়ির এক ব্যক্তির দেওয়া অর্ডার অনুযায়ী ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি চমচম বানান গোকুল সরকার নামে এক কারিগর। ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল ওই চমচম। ৬০০ গ্রাম চমচমের খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় অনেকেই তা অর্ডার করতে থাকেন। এভাবেই শুরু হয়ে যায় পেল্লাই চমচমের পথচলা।

পেল্লাই চমচমের স্বাদ জিভে লেগে থাকার রহস্য কী? মিষ্টি তৈরির কারিগর রমেশ রায় বলেন, “কাজু, কিসমিস ও খোয়া ক্ষীর দিয়ে তৈরি হয় এই চমচম। না খেলে এর স্বাদ বলে বোঝানো সম্ভব নয়।”

লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, “দেশজুড়ে আমরা লাটাগুড়ির চমচমের প্রচার করে চলেছি। পর্যটকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই চমচম। হোটেল, রিসর্ট বুকিং করার সময়ই পেল্লাই চমচমের বিষয়ে খোঁজখবর করেন পর্যটকরা। তাঁরা যেমন ব্রেকফাস্ট কিংবা ডিনারে এই চমচম খেতে চান, তেমনই পরিবারের সদস্যদের জন্যও নিয়ে যান এই চমচম।”

পাশাপাশি দোকানিরা জানাচ্ছেন, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে গিয়েছে লাটাগুড়ির পেল্লাই চমচমের সুখ্যাতি। বাংলাদেশে তো বটেই, এখন মার্কিন মুলুকেও পৌঁছে যাচ্ছে ডুয়ার্সের এই জিভে জল আনা চমচম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ