জয়সূচক শটের পরই হাঁটু মুড়ে পিচে বসলেন সঞ্জু স্যামসন। চোখে-মুখে স্পষ্ট তৃপ্তি। আসলে এমন কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা সত্যিকারের নায়ক হয়েও থেকে যান আলোচনার বাইরে, পার্শ্বচরিত্র হিসেবে। সঞ্জু স্যামসন ভারতীয় দলের তেমনই এক কো-অ্যাক্টর।
জয়সূচক শটের পরই হাঁটু মুড়ে পিচে বসলেন সঞ্জু স্যামসন। চোখে-মুখে স্পষ্ট তৃপ্তি। আসলে এমন কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা সত্যিকারের নায়ক হয়েও থেকে যান আলোচনার বাইরে, পার্শ্বচরিত্র হিসেবে। সঞ্জু স্যামসন ভারতীয় দলের তেমনই এক কো-অ্যাক্টর।
সেই কবে থেকে খেলছেন— ২০১৫ সালে টি-২০ অভিষেক। বিপুল প্রতিভার অধিকারী হয়েও কখনওই প্রচারের আলোয় আসেননি। বার বার বাদ পড়েছেন। ফিরেও এসেছেন। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় স্কোয়াডে তাঁর অন্তর্ভুক্তি কম নাটকীয় ছিল না। শুভমান গিলকে বাদ দিয়ে অজিত আগরকররা যখন সঞ্জুকে তৃতীয় ওপেনার হিসেবে দলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন কতই না হাপিত্যেশ শোনা গিয়েছিল। তা আরও জোরালো হয়েছিল, বিশ্বকাপের আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সঞ্জুর ক্রমাগত ব্যর্থতায়। ওপেনিং জুটি বদলাতে বাধ্য হয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস! সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে লজ্জার হারে শিকে ছেঁড়ে কেরলের ক্রিকেটারটির। অবশ্য গত ম্যাচে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ওপেন করতে নেমে আহামরি কিছু করেননি। তবে ২৪ রানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চাপ কমিয়েছিলেন অভিষেক শর্মার উপর।
কিন্তু ইডেন দেখল অন্য চিত্রনাট্য। ক্রিকেট জনতার স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে ক্যারিবিয়ান বধে পথ দেখালেন। তাঁর ব্যাটের শাসনেই শেষ চারের টিকিট পাকা করল ভারত। জয়ের নায়ক এক এবং একমাত্র সঞ্জু স্যামসন। যেমন বল তেমন শট। রান রেট সচল রেখে চাপ বাড়ালেন বিপক্ষের উপর। ২৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি। এবারের বিশ্বকাপে তাঁর সেরা পারফরম্যান্স। ম্যাচের সেরা হয়ে তিনি বললেন, ‘১০-১২ বছর ধরে আইপিএল খেলছি। দেশের হয়েও দশ বছরের বেশি খেলা হয়ে গেল। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের দেখে অনেক শিখেছি। এই ইনিংসটা দেশের হয়ে আমার তিনটি সেঞ্চুরির চেয়েও দামি।’ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব প্রশংসায় ভরালেন সঞ্জুকে। বললেন, ‘যখন দলের বাইরে ছিল, তখনও পরিশ্রমে ফাঁকি দেয়নি। সেই খাটাখাটনিরই পুরস্কার পেল।’ একই সুর কোচ গৌতম গম্ভীরেরও, ‘সঞ্জু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ওর দক্ষতা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। এই ইনিংসে ও দেখাল যে অভিজ্ঞতা কতটা মূল্যবান। আমাদের যা ব্যাটিং শক্তি, তাতে রান তাড়ার ব্যাপারে চিন্তা ছিল না।’
৫ মার্চ ওয়াংখেড়েতে শেষ চারের লড়াইয়ে টিম ইন্ডিয়ার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। গম্ভীর বললেন, ‘কঠিন ম্যাচ। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ দ্রুত খামতিগুলো শুধরে নিতে না পারলে অবশ্য বিপদ। বার বার পার্শ্বচরিত্ররা তো আর নায়ক হতে পারেন না!