নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে দেড় ঘণ্টার রহস্যভেদ? মঙ্গলবার প্রায় দিনভর ঘটনার পুনর্নির্মাণ, আর তারপর নির্যাতিতার সেই পুরুষ বন্ধুর গ্রেফতারি এই জল্পনাই জোরদার করে দিল। ঘটনার দিন রাত ৮টা থেকে সাড়ে ন’টা। এই সময়ের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন পরাণগঞ্জ জঙ্গলে? পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে মোহনবাগান সরণি ধরে কতটা পথ উজিয়ে নির্যাতিতা গিয়েছিলেন? দু’জনের সঙ্গে ঠিক কোথায় দেখা হয়েছিল গণধর্ষণে অভিযুক্তদের? সেখানে ডাক্তারি পড়ুয়াকে ঠিক কোন সময় ছেড়ে চলে এসেছিলেন ওই পুরুষ বন্ধুটি? তিনি কলেজ ঘুরে ফের কখন নির্যাতিতার কাছে গেলেন? তখন কি অভিযুক্তরা সেখানে ছিল? এইরকম একাধিক প্রশ্নকে সামনে রেখে ওই দেড় ঘণ্টার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করতে এদিন ধৃত পাঁচজনকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় নির্যাতিতার ওই পুরুষ বন্ধুটিকেও। ঘড়ির কাঁটা ধরে ছ’জনের ভূমিকা সেদিন ঠিক কী ছিল, তা জানতে পুনর্নির্মাণের গোটা প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদারকি করেন দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরীও এদিন বলেন, ‘নির্যাতিতার বন্ধু আমাদের সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। ঘটনার সময় তিনি যে পোশাক পরেছিলেন, সেটা বাজেয়াপ্ত করেছি। নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।’ দুপুরে তাঁর এই মন্তব্য, আর রাতে গ্রেফতার। পুলিশ সাফ জানিয়েছে, বয়ানে অসংগতি রয়েছে তার।
এদিন কড়া পাহারায় ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ছ’জনকে। নির্যাতিতার বন্ধুটিকেও মোহনবাগান সরণি দিয়ে হাঁটিয়ে জঙ্গলে নিয়ে আসেন তদন্তকারীরা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাঁরা জানতে চান, ঠিক কতদূর পর্যন্ত একসঙ্গে গিয়েছিলেন? ঠিক কোথায় আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন? পুরো ঘটনাক্রম ভিডিওগ্রাফি করে রাখে পুলিশ। সবচেয়ে বড় কথা, হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্ট থেকেই জানা যাচ্ছে, নির্যাতিতার যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে। আর তা হয়েছে বলপূর্বক কার্যকলাপের ফলেই। রক্তক্ষরণেরও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ফলে ধর্ষণ যে হয়েছে, সে ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত।
পুনর্নির্মাণ শুরুর আগে এদিন সকালেই ধৃত দুই অভিযুক্ত রিয়াজউদ্দিন ও নাসির উদ্দিনকে নিয়ে বিজরা গ্রামে আসে পুলিশ। ঘটনার দিন তারা যে পোশাক পরেছিল, সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। কিছু পরে বাকি তিন অভিযুক্তকেও গ্রামে নিয়ে আসা হয়। তাদের নিয়ে নতুন কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, পদস্থ পুলিশকর্তারা সকালে গিয়েছিলেন ওই বেসরকারি মেডিকেলে। সেখানকার সিসি ক্যামেরার অবস্থান খতিয়ে দেখেন তাঁরা। তারপর যে পথ ধরে ডাক্তারি পড়ুয়া যুগল কলেজ থেকে বেরিয়ে জঙ্গল অভিমুখে গিয়েছিলেন, সেই রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকেন পুলিশের শীর্ষকর্তারা। পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শেষে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারপরই পাঁচ অভিযুক্তকে জঙ্গলে আনা হয়। সেখান থেকে মূল স্পটে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।



