Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মদের আসরে গোলমাল ঘিরে বিবাদের জের, ভিখারিকে কুপিয়ে খুন করল বন্ধু

নেশার আসরে বিবাদের জেরে এক ভিখারি খুন দেগঙ্গায়। মৃতের নাম বাবলু কর্মকার (৪৭)। শনিবার সকালে বাবলুর ঘর থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

মদের আসরে গোলমাল ঘিরে বিবাদের জের, ভিখারিকে কুপিয়ে খুন করল বন্ধু
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: নেশার আসরে বিবাদের জেরে এক ভিখারি খুন দেগঙ্গায়। মৃতের নাম বাবলু কর্মকার (৪৭)। শনিবার সকালে বাবলুর ঘর থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। খুনে অভিযুক্ত নিহতের বন্ধু গোপাল পাল (৩০) কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরিও উদ্ধার হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবলুর বাড়ি দেগঙ্গার বাজারপাড়া এলাকায়। স্ত্রী অন্যত্র চলে যাওয়ার পর বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে নিয়ে থাকতেন বাবলু। বৃদ্ধা মা থাকতেন পাশের একটি ঘরে। বাবলু দিনমজুরের কাজ করতেন। যখন কাজ থাকত না তখন দেগঙ্গার বাইরে গিয়ে ভিক্ষাও করতেন। মাঝেমধ্যে মদ পান করতেন তিনি। বাড়িতে প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে মদের আসর বসাতেন। ভিক্ষার কাজের জন্য বাবলু তাঁরই বন্ধু গোপাল পালকে সহযোগী হিসেবে রেখেছিলেন। ভিক্ষার টাকাও দিতেন বন্ধুকে। গোপালের বাড়ি কল্যাণীর গয়েশপুর এলাকায়। সপ্তাহখানেক ধরে গোপাল ছিলেন বাবলুর বাড়িতে। শুক্রবার রাত আটটার সময় দুই বন্ধু বাড়িতে ফিরে মদের আসর বসান। শনিবার সকালে পাশের ঘর থেকে বৃদ্ধা মা তরু কর্মকার ছেলেকে ডাকতে এসে দেখেন, ঘরের বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ছেলে। নেই বন্ধু গোপাল।
প্রতিবেশীরা এসে খবর দেন দেগঙ্গা থানায়। পুলিশ বাবলুকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে দেগঙ্গার বিশ্বনাথপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর বুকে, পিঠে ও ঘাড়ে ক্ষত রয়েছে। ঘরের মশারিতেও রক্তের দাগ লেগেছিল। দু’টি থালায় ছিল রক্তলাগা ভাত। এরপর দেগঙ্গার বাজার এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু গোপালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। গোপালের পরনের গেঞ্জি ও হাতে রক্তের দাগ ছিল। পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকারও করেছেন গোপাল।
মৃতের এক আত্মীয়া রূপা সাউ বলেন, কী কারণে তাঁকে খুন করা হল, সেটা বুঝতে পারছি না। দেগঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুই বন্ধু ভিক্ষা করে শুক্রবার বাড়িতে ফিরেছিলেন। সেই টাকাতেই মদ কিনেছিলেন। রাত দেড়টা পর্যন্ত মদ্যপান করেন তাঁরা। আর তখনই ভিক্ষার টাকার ভাগ নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে গোপাল প্রথমে বাবলুর গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে দেন। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকে, পেটে ও ঘাড়ে আঘাত করে খুন করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ