নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সবুজ-হলুদ চকচকে গিফট পেপারে মোড়া উপহারের প্যাকেট। তার ভিতরে মিষ্টির বাক্স। তাতে রাখা তাজা দু’টি বোমা। দু’টির মধ্যে একটিও যদি ফাটত তাহলে প্রাণসংশয়। ভোরবেলা এই অনাকাঙ্খিত উপহার পেয়ে মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার জোগাড় পঞ্চায়েত প্রধানের। ঘটনাটি দেগঙ্গার চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। চৌরাশি পঞ্চায়েতের প্রধান বাপ্পা মণ্ডলকেই কেউ বা কারা এই উপহার পাঠিয়েছেন।
এরপর যা হবার তাই হয়েছে। বুধবার শোরগোল পড়ে যায় গোটা গ্রামে। পুলিস আসে। বোমা নিষ্ক্রিয় করে। তারপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। প্রধান বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। বিরোধী দলের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ নয়। কে বা কারা এই কাজ করল বুঝতে পারছি না।’ তবে অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ক’দিন আগে প্রধানের সঙ্গে পঞ্চায়েতের এক ঠিকাদারের বচসা হয়েছে। ঠিকাদার ভয় দেখিয়েছিলেন বাপ্পাবাবুকে। দেগঙ্গা থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত হচ্ছে। ওই অঞ্চলের সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিজেই বাড়ির সদর দরজা বন্ধ করেছিলেন বাপ্পা। অস্বাভাবিক কিছুই তখন নজরে পড়েনি তাঁর। বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠেন প্রধানের মা বিলুদেবী। পুজোর ফুল তুলতে সদর দরজা খোলেন। দেখতে পান, সিঁড়িতে উপহারের একটি প্যাকেট পড়ে রয়েছে। রঙিন কাগজে সেলোটেপ দিয়ে সুন্দর করে মোড়া প্যাকেটটি। একটি সাদা প্লাস্টিকের ভিতর রাখা। বৃদ্ধা বিলুদেবী একটু অবাকই হন। তাই ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকেও তোলেন। বাপ্পাবাবু আসেন। বিষয়টি দেখে সন্দেহ হয় পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদের। প্যাকেটটিকে একটি লাঠি দিয়ে দূরে সরিয়ে দেন। কয়েকজন পরিচিতকে ডাকেন। তারপর রঙিন সরিয়ে দেখা যায় ভিতরে একটি মিষ্টির প্যাকেট রয়েছে। সেটি খুলতেই চমক। ভিতরে দু’টি তাজা সুতলি বোমা। রয়েছে লাল রঙের দু’টি চুড়িও। এরপর পুলিসের আগমন এবং বোমা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া। বাপ্পা মণ্ডলের বাবা জগৎপদ মণ্ডল(৭৪)। মা বিলু মণ্ডল(৬৪)। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে বাপ্পার। আগে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে চৌরাশি পঞ্চায়েত থেকে জিতে প্রধান হয়েছেন।