নিজস্ব প্রতিনিধি, ও সংবাদদাতা: শুক্রবার রথযাত্রায় মেতে উঠল পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আরামবাগের মানুষজন। রথ উপলক্ষ্যে মানুষের ঢল নামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাওয়ার জোগাড় হয় পুলিসের। অন্যান্য জায়গায় শান্তিতেই রথযাত্রা সম্পন্ন হলেও বলরামপুরে ঘটে বিপত্তি। ইলেক্ট্রিক তারে লেগে বলরামের রথের চূড়া ভেঙে যায়। দীর্ঘক্ষণ সেখানে থমকে থাকে রথ।
এদিন পুরুলিয়া শহর, বলরামপুর, হুড়া, কাশীপুর, মানবাজার থেকে শুরু করে ঝালদা-সর্বত্র মানুষের ঢল নামে। পুরুলিয়া শহরে শতবর্ষ প্রাচীন মনোমোহিনী বৈষ্ণবীর রথ দেখতে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। বলরামপুরে শতাব্দী প্রাচীন রথ দেখতে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমায়। বলরামপুর মন্দির থেকে বলরাম, সুভদ্রা এবং জগন্নাথদেবকে রথতলায় মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় বিপত্তি ঘটে। বিদ্যুতের তারে লেগে বলরামদেবের রথের চূড়া ভেঙে যায়। মানবাজারে পাথরমহড়ার রাজবাড়ির ২৫০ বছরের বেশি পুরনো রথযাত্রাকে ঘিরে মেতে উঠেছিল মহকুমাবাসী। রঘুনাথপুর মহকুমায় ২৭টি রথ নিয়ে মানুষের উন্মাদনা তুঙ্গে ছিল।
এদিন বাঁকুড়া জেলাজুড়ে প্রায় ২৫০টি রথ পথ পরিক্রমা করে। বাঁকুড়া শহরে শতাব্দী প্রাচীন বড় রথ, ছোট রথের পাশাপাশি ইসকন ও রামকৃষ্ণ মিশন থেকে বের হওয়া রথকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট উন্মাদনা ছিল। বাঁকুড়া রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনের উদ্যোগে দীঘার রথযাত্রা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেখানে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষজন, তা চাক্ষুষ করেন। বড়জোড়ায় রথ ঘিরে উন্মাদনা দেখা যায়। শুক্রবার বিষ্ণুপুরে কৃষ্ণগঞ্জ এবং মাধবগঞ্জে ৩৫০ বছরের পুরনো মল্লরাজাদের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যপূর্ণ রথযাত্রা শুরু হয়। বিকেলে বিষ্ণুপুরের কৃষ্ণবাঁধ এলাকায় ইসকনের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও রথযাত্রা মহোৎসব কমিটির তরফে বিকেলে বিষ্ণুপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়। শোভাযাত্রার সামনের সারিতে ২৫ জোড়া মৃদঙ্গ বাজিয়ে কীর্তনীয়ারা হেঁটে চলেন।
এদিন আরামবাগ মহকুমার গোঘাট, খানাকুল, পুরশুড়া সহ সর্বত্রই রথের রশিতে টান দিতে ভিড় জমান বাসিন্দারা। পুরশুড়ায় ইসকনের রথযাত্রা ঘিরে বিপুল ভক্ত সমাগম হয়। পুরশুড়ার বিদ্যাসাগর ভবন থেকে শুরু হয়ে তা তারকেশ্বরের দিকে যাত্রা করে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী দেউলপাড়ার রথ ঘিরেও বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। গোঘাটে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের উদ্যোগে রথ যাত্রা ঘিরেও ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়। মঠের রথ কামারপুকুর এলাকা পরিক্রমা করে। আরামবাগ শহরের পুরাতন বাজার থেকেও ঐতিহ্যবাহী রথ বের হয়। সেই রথের রশিতে টান দিতে বাসিন্দারা ভিড় জমান। আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় খুদেরাও রথ যাত্রায় শামিল হয়। অনেক জায়গায় রথ ঘিরে মেলা বসেছে।