নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এত বছর অপেক্ষার পর অবশেষে এল স্বস্তির দিন। আরামে গন্তব্যে পৌঁছতে কতকিছুই না করে মানুষ। এই যেমন হাওড়ার বাসিন্দা মুকুল চট্টোপাধ্যায়। নয়া মেট্রো চালুর প্রসঙ্গে বললেন, ‘হাওড়া ময়দান থেকে মেট্রোয় উঠে হাওড়া স্টেশন যাই। সেখান থেকে সেক্টর ফাইভের বাস ধরে যাই অফিস। আবার ফেরার সময় ‘শাটল গাড়ি’ ধরতে হয়। এর ফলে অনেকগুলো টাকা প্রতিদিন খরচ হয়ে যায়। কিন্তু কী করব? কিছু তো করার নেই। রোজ এত পরিশ্রম করতে ভালো লাগে না। এবার থেকে মেট্রোতে সরাসরি সেক্টর ফাইভ পৌঁছে যাব। ভেবেই স্বস্তি পাচ্ছি।’ মুকুলবাবুর মতো সল্টলেকগামী বহু নিত্যযাত্রী এবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন।
শুধু তাই নয়। ইদানীং কালে সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলির সেন্টার সাধারণত পড়ে টিসিএস গীতাঞ্জলিতে। পরীক্ষা দিতে শহরতলি থেকে অনেকেই হাওড়া স্টেশনে আসেন। দক্ষিণ শহরতলি থেকে অনেকে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য ক্যাব ভাড়া করেন। নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা মৌমিতা মিত্র বললেন, ‘আমি এবার গড়িয়া থেকে মেট্রোয় এসপ্ল্যানেড চলে যাব। সেখান থেকে সল্টলেক। অনেক আরামে নিশ্চিন্তে যাওয়া যাবে।’ এদিকে নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, বাইপাস চত্বরে বাসের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। ফলে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো পেয়ে গেলে তার থেকে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। এর পাশাপাশি মেট্রোতে জুড়ে যাচ্ছে বিমানবন্দরও। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেন ধরার সময় একদল নিত্যযাত্রী বললেন, ‘আজই শেষ দিন ভিড় বাসে ঘেমে নেয়ে যাওয়াআসার।’ তাঁদের কথায়, ‘আমরা সকলে বাগনানে চাকরি করি। ট্রেনে হাওড়ায় এসে সেখান থেকে বাসে শিয়ালদহে আসতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এবার থেকে মেট্রোতে চলে আসব।’ এই তিনটি নতুন লাইন চালু হওয়ার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লক্ষেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে বলে দাবি কলকাতা মেট্রোর। এর পাশাপাশি মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই তিনটি বিভাগে ৩৬৬ নতুন পরিষেবা চালু হতে চলেছে। এসপ্ল্যানেড থেকে শিয়ালদহ, প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা সড়কপথে যেতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লেগে যায় সাধারণত। মেট্রোতে মাত্র ১১ মিনিটেই পৌঁছনো যাবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এসপ্ল্যানেড থেকে বিমানবন্দরে মেট্রো এখন পৌঁছে দেবে মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে। আর বেলেঘাটা থেকে কবি সুভাষ অর্থাত্ নিউ গড়িয়া পৌঁছতে আধ ঘণ্টার মতো সময় নেবে মেট্রো। ফলত সবমিলিয়ে ভাড়া তো বাঁচবেই তার পাশাপাশি সময়ও বাঁচবে সাধারণ মানুষের। তাই বৃহস্পতিবার থেকে মেট্রো, বাস, ট্রেনের নিত্যযাত্রীদের মধ্যে আগামীর সুদিনের আলোচনা। রাস্তার জ্যাম, বাসের ভিড় কিংবা শাটলের বিপুল খরচের হাত থেকে বেঁচে চটজলদি গন্তব্যে পৌঁছতে মুখিয়ে সবাই।