সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় বারাকপুর
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় বারাকপুর
নৈহাটির অরবিন্দ রোডে বড়মা মন্দিরের কাছে ধাড়াশর্মাদের বাড়ির পুজো এবার ৩১৯ বছরে পড়ল। এই পরিবারের সদস্য জিতেন্দ্রনাথ ধাড়াশর্মা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। সেকারণে ওই সময়ে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী আসতেন এই পুজো দেখতে। এখানে মাকে দর্শন করার পর তাঁরা বের হতেন স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজে। সেই গল্প আজও পরিবারের সদস্যদের মুখে মুখে ঘোরে। এই পুজোর মাহাত্ম্য হল, দশমীর দিন ঘটের সুতো কাটার পর ধাড়াশর্মা পরিবারের সদস্যরা মা দুর্গার পায়ে প্রণাম করে দর্পণে মাকে দর্শন করেন। পরিবারের প্রবীণ সদস্য কৈলাস ধাড়াশর্মা বলেন, একবার পরিবারে অর্থকষ্ট দেখা দেয়। সেই সময় পুজোর জন্য ঘটে পয়সা জমাতে শুরু করি। বছর শেষে মনে হয়েছিল, ঘটে যেটুকু পয়সা জমেছে, তা দিয়ে পুজোর খরচ উঠবে না। অথচ ওই ঘট ভাঙার পর দেখা যায়, পুজোর খরচ তো উঠেই গিয়েছে, তারপরওটাকা থেকে গিয়েছে। এমন অলৌকিক বেশ কিছু ঘটনা রয়েছে পরিবারে।
হুগলির বড়াগ্রামে শুরু হয়েছিল এই পুজো। সেই সময় জাঁকজমক এত ছিল না। তবে ঐতিহ্য মেনে নিষ্ঠার সঙ্গেই পুজো হতো। পরে এই পুজো চলে আসে নৈহাটিতে। ধাড়াশর্মাদের বাড়ির কাছেই রয়েছে পতিতাপল্লি। পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই পরিবারের সদস্যরাও শামিল হন এই বাড়ির পুজোয়।
কৈলাস ধাড়াশর্মা বড়মার মন্দিরে পুজোর ফুল ও ডালা বিক্রি করেন। কষ্টেশিষ্টেই চলে দিন। তিনি বলেন, বহু বছর আগে পরিবারের এক সদস্য নৈহাটির অরবিন্দ রোডে এসে থাকতে শুরু করেন। তাঁর হাত ধরেই নৈহাটিতে পুজো শুরু হয়। নবাবী আমল শেষ হওয়ার পর ব্রিটিশ যুগেও এই পুজোয় ছেদ পড়েনি। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিত্য যাতায়াতে ছিল এখানে। এক সময় পুজোকে কেন্দ্র করেই হতো যাত্রাপালা, নানা ধরনের অনুষ্ঠান। এই পরিবারেরই সদস্য প্রখ্যাত তবলা বাদক দিলীপ ধাড়াশর্মার সৌজন্যে অনেক শিল্পীও এই বাড়িতে এসেছেন পুজো দেখতে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, রাধাকান্ত নন্দী সহ বহু নামীদামি শিল্পী এসেছেন আমাদের বাড়িতে।
আগে ধাড়াশর্মাদের বাড়ির দালানে প্রতিমা তৈরি হতো। এখন মা আসেন মৃৎশিল্পীদের ঘর থেকে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী মাকে খই-কদমা ভোগ দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় দেওয়া হয় লুচি, সুজি, মিষ্টি, শীতলভোগ। শুধু নবমীর দিন হয় খিচুড়ি, অন্নভোগ। সেদিনই প্রসাদ বিতরণ করা হয় এলাকার মানুষকে। কৈলাসবাবুর কথায়, পুরোনো ঐতিহ্য ও রীতি মেনেই আমরা পুজো করি। এখনও পুজোর জন্য ঘটে টাকা জমানো হয়। তা দিয়েই মায়ের পুজো হয়।