Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মুক্ত

মুমুক্ষুজীব যারা সংসার-জাল থেকে মুক্ত হবার জন্য ব্যাকুল প্রাণে চেষ্টা করছে। যারা সংসার-জাল থেকে পালাতে পারে তারাই হ’ল মুক্তজীব। পানকৌটী জলে থাকে বটে, কিন্তু তার গায়ে জল লাগে না। মুক্ত পুরুষেরাও সেই রকম। পাঁকাল মাছ পাঁকে থাকে বটে, কিন্তু পাঁক তার গায়ে লাগে না। মুক্ত পুরুষেরাও সেইরকম।

মুক্ত
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুমুক্ষুজীব যারা সংসার-জাল থেকে মুক্ত হবার জন্য ব্যাকুল প্রাণে চেষ্টা করছে। যারা সংসার-জাল থেকে পালাতে পারে তারাই হ’ল মুক্তজীব। পানকৌটী জলে থাকে বটে, কিন্তু তার গায়ে জল লাগে না। মুক্ত পুরুষেরাও সেই রকম। পাঁকাল মাছ পাঁকে থাকে বটে, কিন্তু পাঁক তার গায়ে লাগে না। মুক্ত পুরুষেরাও সেইরকম।

Advertisement

ধ্রুব ও প্রহ্লাদ প্রাতে-তোলা মাখনের মত উৎকৃষ্ট ছিল। বেলাতে মাখন তুললে তেমন ভাল হয় না। অনেক বয়সে সাধনা করলে সেই রকম পবিত্র হতে পারে না। নারদ শুকদেব এঁরা সব নিত্যজীব। যেমন ‘Steam boat’ (কলের জাহাজ) আপনিও পারে যেতে পারে, আবার বড় বড় জীব-জন্তু এমন কি হাতীকে পর্যন্তও পারে নিয়ে যেতে পারে। নিত্যজীব যেমন মৌমাছি কেবল ফুলের উপর বসে মধু পান করে। নিত্যজীব একমনে হরি-রস পান করে, বিষয় রসের দিকে ফিরেও তাকায় না। সাধ্য সাধনা করে যে ভক্তি, এদের সে ভক্তি নয়। এত জপ, এত ধ্যান করতে হবে, এইভাবে পূজো করতে হবে, এ সব বিধিবাদীর ভক্তি নিত্যজীবের নয়।
ঈশ্বর যেন চিনির পাহাড়; তাঁর কাছে গিয়ে ক্ষুদে পিঁপড়ে একটি ছোট্ট দানা নিলে। ডেঁও পিঁপড়ে না হয় তার চেয়ে একটু বড় দানা নিলে, কিন্তু পাহাড় যেমন তেমনি রইল। ভক্তেরা সেই রকম তার একটা ভাব নিয়ে মেতে যায়, কেউ তাঁর সব ভাব নিতে পারে না। কেউ এক ছটাক মদ খেয়ে মাতাল হয়, কেউ বা দু’চার বোতল মদ খেয়ে মাতাল হয়। মদ খাওয়া হলে শুঁড়ির দোকানে কত মণ মদ আছে তার হিসাব আর কি দরকার? সাধুসঙ্গ চালের জলের মত। চালের জলে নেশা কাটায়। যার অত্যন্ত নেশা হয়েছে চালের জল খাওয়াও দেখবে তার নেশা চলে যাবে। সংসার মদে মত্ত জীবের নেশা কাটাবার একমাত্র উপায় সাধুসঙ্গ। মফঃস্বলের নায়েব, প্রজার উপর কত অত্যাচার করে, কিন্তু জমিদারের কাছে এসে সকালে বিকালে জপ-তপ করে, প্রজার উপর খুব সদ্ব্যবহার করে, কোন রকম নালিশ উপস্থিত হলে বিশেষরূপ তদন্ত করে সদ্বিচার করতে চেষ্টা করে; সঙ্গগুণে ও জমিদারের ভয়ে অত্যাচারী নায়েবও ভাল হয়ে যায়। ভিজে কাঠ উনুনের উপর রাখলে তাপ লেগে তার জল শুকিয়ে জ্বলে ওঠে, সেই রকম সাধুসঙ্গে সংসারী লোকের ভিতর কামিনী-কাঞ্চনরূপ জল শুকিয়ে গিয়ে বিবেক আগুন জ্বলে ওঠে।
কিরূপে জীবন যাপন করতে হবে?
ঝিক্‌নে কাঠি দিয়ে যেমন মাঝে মাঝে উনুন নেড়ে দিতে হয়, তাতে নিবু নিবু আগুন উস্কে ওঠে, সেই রকম সাধুসঙ্গ করে মনকে সতেজ করা চাই। কামারশালার আগুন যেমন জাঁতা টেনে মাঝে মাঝে তাইয়ে রাখে, সেই রকম সাধুসঙ্গ করে মনকে তাইয়ে রাখা উচিত।
সুরেশ চন্দ্র দত্তের ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের উপদেশ’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ