নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দুর্গাপুজোর মরশুমে বাজারে কেনাকাটার ভিড় সামলাতে অনেকেই ঝুঁকছেন অনলাইন শপিংয়ের দিকে। কিন্তু সেই সুবিধাকেই হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা। বিশেষত পুজোর সময় প্রতারকরা ‘পুজোর স্পেশাল অফার’, ‘লাকি ড্র’ কিংবা ‘গিফট ভাউচার’-এর মতো নানা ফাঁদ পেতেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণনগর সহ আশপাশের গ্রাম এবং শহরাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে প্রতারকরা। যার জন্যই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে সাইবার বিশেষজ্ঞরা। দামি ব্র্যান্ডেড জিনিস স্বল্পমূল্যে বিশেষ অফারে কেনার সময়ে ভালো করে দেখে নেওয়ার নিদান দিচ্ছেন তাঁরা।
প্রতারকরা নানা কৌশল ব্যবহার করছে। প্রথমে গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং অনলাইনে কেনা জিনিসের তথ্য জোগাড় করে নেওয়া হয়। তারপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকের কাছে ফোন বা মেসেজে জানানো হয় যে, তিনি একটি ‘বিশেষ গিফট’ বা ‘লাকি ড্র’ জিতেছেন। গিফটটি পাঠানোর জন্য সামান্য পরিমাণ ডেলিভারি চার্জ চাওয়া হয়। গ্রাহক টাকা পাঠালেই প্রতারকের নম্বর বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই টাকার আর কোনও হদিশ মেলে না। ছোট অঙ্কের টাকা হওয়ায় অনেকে অভিযোগও করেন না, ফলে প্রতারকরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে। তার উপর বিভিন্ন ভুয়ো ওয়েব সাইট থেকে সস্তায় জামকাপড় কিনতে গিয়েও প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
চাপড়ায় এক যুবক বলেন, অনলাইনে একটি জামা অর্ডার করার পর ফোন আসে যে, জামাটির সঙ্গে পুজোর বিশেষ গিফট রয়েছে। সেটি পেতে ১৫০ টাকা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। আমার সন্দেহ হয়, কারণ অর্ডারের সময়ে কোনও অফারের কথা বলা হয়নি। তাই সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটি ব্লক করে দিই।
কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের দাবি, পুজোর সময় অনলাইন কেনাকাটার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আর সেই সুযোগেই প্রতারকরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাইবার প্রতারণার সংশ্লিষ্ট পোর্টালে এই নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগও জমা পড়ছে। তাই শুধু অনলাইন শপিং নয়, সহজে টাকা জেতার অনলাইন গেম, ফিশিং লিঙ্ক বা ভুয়ো অফারের মাধ্যমেও প্রতারণা করা হচ্ছে। এমনকী ইলেকট্রিক বিলের পেমেন্ট করতে গিয়েও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কৃষ্ণনগর সাইবার থানার এক আধিকারিক জানান, প্রতারকরা নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি। এখনো পুজোর মরশুম, অনলাইনে কেনাকাটার করার সময়ে খুব সবধান হতে হবে। অনলাইন অফারের প্রলোভনে পা দেওয়া যাবে না। এইভাবে প্রতারকরা ফাঁদ পাতছে। সবসময় বিশ্বস্ত ও অফিসিয়াল সাইট ব্যবহার করতে হবে। অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলে ব্যক্তিগত তথ্য বা পেমেন্টের তথ্য শেয়ার করা যাবে না। সন্দেহজনক লিঙ্কে কখনও ক্লিক করা উচিত নয়। যদি প্রতারণার শিকার হন, সঙ্গে সঙ্গে সাইবার থানায় অভিযোগ করতে হবে এবং প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।