নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: চাকরি দরকার ছিল। তাই ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন লেকটাউনের এক তরুণী। প্রথম দিনের কাজের পারিশ্রমিক পান তিনি। কিন্তু, তারপরই কাজে ভুল ধরে ওই তরুণীর কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকা ‘পেনাল্টি’ নিল প্রতারকরা! বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই তরুণী লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। খোয়া যাওয়া সাত লক্ষ টাকার মধ্যে ওই তরুণী তিন লক্ষ টাকা তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ওই বন্ধু তাঁর মায়ের অপারেশনের জন্য তিন লক্ষ টাকা জমিয়েছিলেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, লেকটাউনের পাতিপুকুর এলাকায় ওই তরুণীর বাড়ি। তিনি চাকরি খোঁজ করছিলেন। ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন। তাতে প্রতারকদের ফোন নম্বর দেওয়া ছিল। প্রতারকদের কথা মতো তিনি একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। তাঁকে দৈনিক কাজের ভিত্তিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অফার দেওয়া হয়। প্রতিদিন পারিশ্রমিক বাবদ ২০০ টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। বিভিন্ন হোটেলের ফাইভ স্টার রেটিং দেওয়ার কাজ। গত ১১ জুন তিনি কাজে যোগ দিলে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০০ টাকা জমা করে তারা।
পরে তাঁকে জানানো হয়, দিনে ৪০০ টাকা জমা রেখে কাজ করলে তার বিনিময়ে রোজ ১০৪০ টাকা মিলবে। প্রথমবার সেই টাকাও তিনি পান। কিন্তু, তারপর তাঁকে একটি কাজ দেওয়া হয়। সেই কাজে ভুল হয়েছে বলে তাঁকে সতর্ক করা হয়। ওই ভুলের জন্য তাঁকে পেনাল্টি জমা করতে বলা হয়। ৪০ হাজার, ৪৫ হাজার, ২৬ হাজার করে প্রথমে বেশ কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। তারপর একই ফাঁদে ফেলে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করে প্রতারকরা। ওই টাকা দেওয়ার পর প্রতারকরা যখন তাঁর কাছে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে, তখন তিনি বুঝতে পারেন প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি লেকটাউন থানার দ্বারস্থ হন। রবিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।