নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দুঃস্থ রোগীদের সাহায্য করার নামে বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প করে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সংগ্রহ করেছিল একটি চক্র। পরে ওই কার্ডের মালিকদের নার্সিংহোমে ডেকে এনে একদিন ভর্তি রাখা হয়। পরে বেডে শোয়ানো অবস্থায় তাঁদের ছবি পাঠিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে তদন্তে এমনই তথ্য আধিকারিকদের হাতে এসেছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সেটিং’ থাকায় চক্রটির টাকা পেতে সমস্যা হত না। তবে সেইসময় বিষয়টি চূড়ান্ত বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছানোয় তৎকালীন সরকার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। অনিয়মের অভিযোগে বর্ধমানের দু’টি নার্সিংহোম বন্ধ করা হয়। কিন্তু নার্সিংহোম মালিক বা অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার তাঁদের বিপদ বাড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।
এক আধিকারিক বলেন, প্রতি মাসেই কলকাতা থেকে একটি টিম বর্ধমানে আসত। তারা জাতীয় সড়কের পাশে হোটেলে উঠত। সেখানেই তাদের ‘ভাগ’ পৌঁছে দিতে হত। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, প্রমাণ সহ বেশকিছু তথ্য আমরা স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা করেছি। প্রশাসন সবকিছু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্তদের অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি টাকা নয়ছয় করে একশ্রেণির চিকিৎসক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ফুলেফেঁপে উঠেছেন। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আমরা জানতে পেরেছি নির্দিষ্ট একটি রোগ দেখিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে কয়েক কোটি টাকা তোলা হয়েছে। সেইসময় বেশ কয়েকজন আরএমওকে ‘হায়ার’ করে এনে ফাইলে সই করানো হয়েছে। সমস্ত তথ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে জমা পড়েছে। অভিযুক্তরা রেহাই পাবে না।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে। সেইসময় ব্যাপক জলঘোলা হওয়ার পর স্বাস্থ্যদপ্তর বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে অভিযান চালায়। সেখানে কয়েকশো কার্ড উদ্ধার হয়েছিল। দুর্নীতি লাগামছাড়া হয়ে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যদপ্তর বেশকিছু নিয়মে পরিবর্তন আনে। রোগীদের সমস্ত নথি স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়। আগে কার্ড থেকে কত টাকা কাটা হচ্ছে সেটা রোগীরা জানতে পারতেন না। পরে রোগীদের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে টাকা কাটার বিষয়টি জানানো হত। এছাড়া ছুটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের কার্ড ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। একসময় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছেমতো কার্ড রোগীদের দিত। স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বড় দুর্নীতি বর্ধমান জেলায় হয়েছে। জেলার কয়েকজন চিকিৎসক স্বাস্থ্যদপ্তরের স্ক্যানারে রয়েছেন। গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প তৈরিতে তাঁদের বড় ভূমিকা ছিল।



