লখনউ, ৬ নভেম্বর: আত্মীয়ের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি অপেক্ষা করছে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি পরিবারের সদস্যরা। খেলতে খেলতেই ঘরের মধ্যে রাখা কাশির সিরাপের বোতল তুলে নেয় চার বছরের শিশু। পরিবারের দাবি, গোটা বোতল সিরাপ খেয়ে ফেলেছিল সে। এরপর কিছুক্ষণ খেলাধুলো করে ঘুমিয়ে পড়ে শিশুটি। কিন্তু সেই ঘুম যে আর ভাঙবে না, তা বুঝতে পারেননি কেউই। পরদিন সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও যখন শিশুটির সাড়া মেলেনি, তখনই সামনে আসে ভয়াবহ পরিণতি। উত্তরপ্রদেশের হারদইয়ের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
গত ৫ নভেম্বর, বুধবার, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মা ও দিদিমার সঙ্গে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল ওই চার বছরের খুদে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির ৭০ বছর বয়সি এক আত্মীয়ের কাশি হয়েছিল। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ ঘরে রাখা বোতল থেকে কাশির ওষুধ খান তিনি। সেই সময় কাছেই খেলছিল শিশুটি। পরে চোখের আড়াল হতেই ওই কাশির সিরাপটি পুরোটাই খেয়ে ফেলে সে। অভিযোগ, ওষুধ খাওয়ার পর নিজেই দিদিমার কাছে গিয়ে বোতলের ঢাকনা বন্ধ করে দিতে বলে শিশুটি। এমনকী, সিরাপ খেয়ে নেওয়ার কথাও জানায়। তবে প্রথমে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। কিছুক্ষণ খেলাধুলো করার পর ঘুমিয়ে পড়ে সে। পরিবারের লোকজনও ভেবেছিলেন, খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পেরিয়ে গেলেও ঘুম না ভাঙায় সন্দেহ হয় পরিবারের। তড়িঘড়ি স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চিকিৎসক তাকে মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার সময়ই তখন তাঁর মধ্যে আর প্রাণ ছিলনা। সিজি পরীক্ষাতেও হৃদস্পন্দনের কোনও চিহ্ন মেলেনি। পরিবারের কাছ থেকে চিকিৎসকরা জানতে পারেন, শিশুটি ভুল করে গোটা বোতল কাশির সিরাপ খেয়ে ফেলেছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনের জেরেই এই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



