সংবাদদাতা, বোলপুর: সোনাঝুরি জঙ্গলের পরিবেশ রক্ষার্থে বুলডোজার নিয়ে অ্যাকশনে নামল বনদপ্তর। কোনো চারচাকা গাড়ি যাতে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকতে না পারে, তারজন্য জঙ্গলে ঢোকার রাস্তা জেসিবি দিয়ে কেটে দেওয়া হল। জঙ্গলের চারপাশে লাগানো হোটেল ও রিসর্টের বড় বড় বিজ্ঞাপনের বোর্ডও সরিয়ে ফেলে বনদপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে এই বোর্ডে ঢেকে যাচ্ছিল সোনাঝুরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রাস্তার দু’ ধারে কংক্রিটের থামের উপর বসানো লোহার সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলা হয় এদিন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বোলপুর বনদপ্তরের রেঞ্জার সহ শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ।
পর্যটকদের কাছে সোনাঝুরির খোয়াই হাট অত্যন্ত জনপ্রিয়। সারা বছরই এখানে ভিড় থাকে। তবে বনদপ্তরের জমিতে ব্যবসায়িক হাট বসার কোনো নিয়ম নেই বলেই অভিযোগ। পাশাপাশি জঙ্গলের ভিতরে গাড়ি প্রবেশ, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা ও পরিবেশ নষ্ট হওয়া নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছিল। এই বিষয় নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। যদিও মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে। এই নিয়ে সুভাষ দত্ত বলেন, সোনাঝুরি জঙ্গল ধীরে ধীরে ব্যবসার চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বনদপ্তরের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক। তবে ভবিষ্যতেও যাতে নিয়ম মেনে সবকিছু পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও জঙ্গলের পরিবেশ রক্ষায় মাটি কাটার কাজ শুরু করেছিল বনদপ্তর। তখন হাটের কিছু শিল্পী আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, রাস্তা বন্ধ হলে পর্যটক কমে যাবে এবং ব্যবসার ক্ষতি হবে। যদিও বনদপ্তরের দাবি ছিল, বড় গাড়ি ঢোকার ফলে নতুন গাছের চারা নষ্ট হচ্ছিল। জঙ্গলের সবুজায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। পরে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সোনাঝুরি এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চলাচল, প্লাস্টিক বর্জ্য, খাবারের দোকান ও অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে জঙ্গলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে গাছ চুরির অভিযোগও উঠেছিল। সেই কারণেই এবার আরও কড়া অবস্থান নেয় বনদপ্তর। গত কয়েক বছরে সোনাঝুরির আশেপাশে বহু হোটেল ও রিসর্ট তৈরি হয়েছে। তার বেশিরভাগই নিয়ম না মেনেই গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। আদালতে বন বিভাগের জমি দখলের অভিযোগও জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও এই হাটে আসা চারচাকা গাড়ি রাখার জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিমাই দাস একটি পার্কিং জোন করেছিল। এটি বেআইনি বলে সম্প্রতি তা বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপির নেতাকর্মীরা।
খোয়াই হাটের দায়িত্বে থাকা সুকেশ চক্রবর্তী ও হোটেল ব্যবসায়ী গণেশ ঘোষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, হাটে চারচাকা গাড়ির প্রবেশ বন্ধ হওয়া খুবই প্রয়োজন ছিল। তবে ব্যবসায়ীদের যাতে সমস্যায় না পড়তে হয়, সেদিকেও নজর রাখার অনুরোধ করেছি প্রশাসনকে।