Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেগঙ্গায় যুবক খুন কাণ্ডে প্রকাশ্যে এল চতুর্মুখী প্রেম কাহিনি, ধৃত ৩

ত্রিকোণ প্রেমের গল্প আকছার শোনা যায়। কিন্তু দেগঙ্গায় শরিফুল ইসলাম (৩৫) খুনে সামনে এল চতুর্মুখী প্রেম কাহিনি। মঙ্গলবারের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রেমিকা বধূ সহ তার আরও দুই প্রেমিককে।

দেগঙ্গায় যুবক খুন কাণ্ডে প্রকাশ্যে এল চতুর্মুখী প্রেম কাহিনি, ধৃত ৩
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ত্রিকোণ প্রেমের গল্প আকছার শোনা যায়। কিন্তু দেগঙ্গায় শরিফুল ইসলাম (৩৫) খুনে সামনে এল চতুর্মুখী প্রেম কাহিনি। মঙ্গলবারের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রেমিকা বধূ সহ তার আরও দুই প্রেমিককে। বুধবার তিনজনকে বারাসত আদালতে পাঠায় পুলিশ। ধৃতরা হল ইসমাতারা বিবি, মনা ঘোষ ও সফিকুল ইসলাম। ধৃতদের বারাসত আদালতে তোলা হলে মনা ও ইসমাতারাকে ছ’দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সফিকুলের জেল হেপাজত হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার সোহাই-শ্বেতপুর পঞ্চায়েতের শ্বেতপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাতারা বিবি। পাশের পাড়ার বাসিন্দা মনা ঘোষ। তিনি অবিবাহিত। কমবেশি ২০ বছর ধরে মনা ও ইসমাতারার প্রেম ছিল। পরবর্তীতে ইসমাতারার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রতিবেশী পেশায় চাষি শরিফুল ইসলামের। প্রতিবেশী থেকে তিন পরিবারের লোকজনও কমবেশি এই সম্পর্কের কথা জানত। ত্রিমুখী প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে আচমকা ‘এন্ট্রি’ নেয় পড়শি সফিকুল ইসলাম। চারবছর ধরে সফিকুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ইসমাতারার। সদ্য সফিকুলকে বেশি সময় দিতেন ইসমাতারা। সফিকুলের সম্পর্কের বিষয়টি ভালো ভাবে নেয়নি শরিফুল। শুরু হয় বিবাদ। সফিকুলের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইসমাতারাকে চাপ দেয় শরিফুল। কিন্তু সফিকুল ও ইসমাতারা কেউই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে না আসায় বাধা দিয়েছিল শরিফুল। ফলে ইসমাতারা ও সফিকুলের ‘টার্গেট’ হয় শরিফুল। এদিকে ইসমাতারার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করায় শরিফুলের বিরুদ্ধে আগেই আক্রোশ ছিল মনা ঘোষের। ফলে, চতুর্মুখী প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনে মনা, সফিকুলের পাশাপাশি ইসমাতারার শত্রু হয়ে উঠে শরিফুল। সেই আক্রোশ থেকেই শরিফুলকে খুনের ‘ছক’ কষে প্রেমিকা ইসমাতারা ও তাঁর দুই প্রেমিক। সেই মতো সোমবার রাতে শরিফুলকে ফোন করে ডাকে ইসমাতারা। আগে থেকেই প্রেমিকার বাড়িতে পরিকল্পনা মতো হাজির ছিল মনা ও সফিকুল। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, প্রেমিকার বাড়িতে পৌঁছনোর পরেই তিনজন মিলে শরিফুলকে নিয়ে যায় ইসমাতারার বাড়ির পিছনে একটি পুকুরের ধারে। সেখানেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় শরিফুল ইসলামকে। আর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শরিফুলের দেহ ফেলে রাখা হয় শ্বেতপুর গ্রামের একটি পার্কের কাছে। মঙ্গলবার সকালেই উদ্ধার হয় শরিফুলের দেহ। থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। দেগঙ্গার আইসি অর্ণব গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত। অবশেষে সাফল্য পেল পুলিশ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ