Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরকর্মীকে খুন করতে ৫ লাখ সুপারি বোনের, আসানসোলে ধৃত চার শার্প শ্যুটার

কোটি টাকার জমির লোভে মনুষত্ব হারিয়েছিল বোন। খুড়তোত দাদাকে খুন করতে শার্প শ্যুটার ভাড়া করে এমএ পাশ ফারানাজ

পুরকর্মীকে খুন করতে ৫ লাখ সুপারি বোনের, আসানসোলে ধৃত চার শার্প শ্যুটার
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কোটি টাকার জমির লোভে মনুষত্ব হারিয়েছিল বোন। খুড়তোত দাদাকে খুন করতে শার্প শ্যুটার ভাড়া করে এমএ পাশ ফারানাজ। ৫ লক্ষ টাকায় আসানসোল পুরসভার কর্মী জাভেদ বারিককে খুন করার বরাত দেয় সে। চারজন শার্প শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করে খুনের মামলার একবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে পুলিশ। চারজনেরই বাড়ি আসানসোল উত্তর থানা এলাকায়। কুলটি থানার পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আসানসোল আদালতে তোলে। বিচারক চারজনকেই ছ’ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পাঁচ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ২৯ আগস্ট ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী থাকে নিয়ামতপুর। বাজার থেকে পান খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে জনবহুল এলাকাতেই রাতে গুলিবিদ্ধ হয় জাভেদ বারিক। সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করে চম্পট দিচ্ছে দুই দুষ্কৃতী। তাঁরা একটি বাইকে করে এলাকা থেকে চম্পট দেয়। খুনিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ প্রথম গ্রেপ্তার করে মৃতের খুড়তুতো ভাই ইন্তেখাব আলমকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই ঘটনার মাথা ফারানাজের হদিশ পায় পুলিশ। জলপাইগু঩ড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হয় তার গাড়ির চালক। পুলিশ জানতে পারে, জাভেদ বারিকের বাবার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে জলপাইগুড়ি এলাকায়। সেই জমি লুটের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল জাভেদ। পথের কাঁটা সরাতেই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে বোন। ফায়নাজের বিয়ে হয়েছে আসানসোলের আসিফের সঙ্গে। আসিফের বস্তিন বাজারে ফলের দোকান রয়েছে। ফায়নাজ সেই এলাকা থেকেই শার্প শ্যুটার জোগাড় করে। তাদের সঙ্গে পাঁচ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। শার্প শ্যুটার ঠিক করা থেকে, কী ভাবে খুন করা হবে তার পরিকল্পনাও করে গর্ভবতী ফায়নাজ। পুলিশের দীর্ঘ জেরায় সে শার্প শ্যুটারদের নিয়ে মুখ খোলে। এরপরই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ থেকে পুলিশ তাঁদের চিহ্নিত করে। যে গুলি চালিয়েছিল, সে আসানসোল রেল পাড়ের আদিল, বাইকের পিছনে ছিল সনু। পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার পরই তারা বিহারে আত্মগোপন করেছিল। পুলিশ তাদের ধরতে গুটি সাজায়। তখনই জানতে পারে, শুধু এরা দু্’জন নয়, আরও দু‌’জন ছিল তাদের সাহায্য করার জন্য। তাদের বাড়িও আসানসোল রেল পাড় এলাকায়। তারাও বিহারের আছে। পুলিশ শনিবার খবর পায়, চার শার্প শ্যুটার আসানসোলে ফিরেছে। শুরু হয় অভিযান। গ্রেপ্তার হয় চারজনই। খুনের সময়ে দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করা একটি বা‌ইক ও একটি স্কুটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। যদিও খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ