সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: আন্তঃরাজ্য মানব পাচার চক্রের মূল পান্ডা সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করল হুগলি জেলা পুলিশের ধনেখালি থানা। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ধনেখালি থেকে নিখোঁজ হয় ১৪ বছরের এক কিশোরী। স্কুলে যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বেরলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও পাওয়া যায় না মেয়েকে। শেষমেশ ধনেখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে প্রলোভন দিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাকে। অভিযোগের ভিত্তিতে ধনেখালি থানা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে নেমে নাবালিকার পরিবার ও তার বান্ধবীদের কাছ থেকে একটি মোবাইল নম্বর পায় পুলিশ। সেই মোবাইলটি সুইচ অফ ছিল। জানা যায়, ওই মোবাইলটি বর্তমানে উজিল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি ব্যবহার করছে। প্রথমে মালদহ জেলার কালিয়াচক থেকে উজিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে জানা যায়, উজিল টাকার বিনিময়ে নাবালিকাকে হাওড়া স্টেশনে রাজু ওরফে মফিজুল ইসলামের হাতে তুলে দেয়। কিশোরীকে চাকরির টোপ দিয়ে উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে সে বুঝতে পারে, তাকে দেহ ব্যবসায় নামানোর ফন্দি এঁটেছে তারা। তারপর জোরপূর্বক তাকে ওই কাজ করতে বাধ্য করা হয়। ধনেখালি থানার পুলিশ ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ যৌথভাবে তদন্ত চালাতে থাকে। ধৃত উজিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরেকটি মোবাইল নম্বর হাতে পায় পুলিশ। সেই মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইলস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম রায়গঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছে। পরিকল্পনা করেই উজিলকে দিয়ে মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হয়। বলা হয়, আরেক তরুণীর সন্ধান রয়েছে, তাকেও বিক্রি করা যেতে পারে। যদিও মফিজুল নিজে না এসে তার দুই সহযোগীকে পাঠায়। এরপর ইসলামপুর থানার সহযোগিতায় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে ফিরোজা খাতুন ও ফজিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত এই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ নাবালিকা মফিজুলের কাছে রয়েছে। পুলিশ কৌশলে যোগাযোগ করে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। অভিযানের সময় আরও দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি মূল অভিযুক্ত মফিজুল ইসলামকে ধর্মতলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সবাইকেই চাকরির টোপ দিয়ে উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা সকলেই আন্তঃরাজ্য মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে।