Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেমারি, দেবীপুরে চার বস্তা লটারি বাজেয়াপ্ত, রাজস্ব না দিয়ে চলছিল বেআইনি কারবার

রাজস্ব না দিয়ে মেমারিতে রমরমিয়ে চলছিল লটারি। বুধবার দেবীপুর এবং রসুলপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিসের ডিইবি বিভাগ প্রায় চার বস্তা লটারি উদ্ধার করেছে।

মেমারি, দেবীপুরে চার বস্তা লটারি বাজেয়াপ্ত, রাজস্ব না দিয়ে চলছিল বেআইনি কারবার
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজস্ব না দিয়ে মেমারিতে রমরমিয়ে চলছিল লটারি। বুধবার দেবীপুর এবং রসুলপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিসের ডিইবি বিভাগ প্রায় চার বস্তা লটারি উদ্ধার করেছে। সেই সঙ্গে আশরাফুল মণ্ডল ও লাল্টু মাঝি নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগেও পুলিস মেমারি থেকে অবৈধ লটারি উদ্ধার করেছিল। এক আধিকারিক বলেন, রাজস্ব না দিয়ে মেমারির বিভিন্ন জায়গায় লটারি খেলা চলছিল বলে অভিযোগ আসে। তারপরই অভিযান চালানো হয়। এই ধরনের লটারির টিকিট কেটে ক্রেতারা প্রতারিত হতে পারেন।

Advertisement

পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলায় ওয়ান ফিগার লটারির রমরমা রয়েছে। আধিকারিকরা সেগুলি খতিয়ে দেখছেন। কার মদতে জেলার বিভিন্নপ্রান্তে অবৈধ লটারি চলছে, সেটা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় এই খেলা ‘হাতে লেখা লটারি’ নামেও পরিচিত। টাকা দেওয়ার পর বিক্রেতারা টিকিট দেয় না। শুধু একটা নম্বর দেয়। এক্ষেত্রে একটি নামী সংস্থার লটারির প্রথম পুরস্কারের শেষ নম্বর দেখে পুরস্কার দেওয়া হয়। ধরা যাক, কেউ ১০০ টাকার বিনিময়ে ৭ নম্বর বেছে নিয়েছে। নামী সংস্থার লটারির প্রথম পুরস্কারের শেষ নম্বরটি যদি ৭ হয়, তাহলে ওয়ান ফিগারের ক্রেতা মূল টাকার কয়েকগুণ পাবেন। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই খেলা চলছে। স্থানীয়রা বলেন, মেমারি শহরে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংস্থার লটারি চলছিল। এরাজ্যে সেই সংস্থার বৈধতা নেই। নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব দিলে তবেই লটারি বিক্রির অনুমতি পাওয়া যায়। ওই সংস্থাটি সেসবের পরোয়া করত না। প্রতিদিনই খেলা হতো। অনেকে না জেনেই লটারি কেটেছেন। বিক্রেতাদের বেশি টাকা কমিশন দেওয়া হয়। সেই কারণে তারা ক্রেতাদের এই টিকিট নেওয়ার জন্য প্রভাবিত করত বলে অভিযোগ। ওই সংস্থাটি জেলার আরও কয়েকজনকে এজেন্সি দিয়ে রেখেছে। তারা গোপনে টিকিট বিক্রি করে ফায়দা তুলছে। পুলিস জানিয়েছে, মেমারির দুই বিক্রেতাকে জেরা করে বিভিন্ন জনের নাম পাওয়া গিয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। টিকিট কাটার পর আদৌও নিয়ম মেনে খেলা হয় কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একটি চক্র জাল টিকিট বিক্রিরও চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিস তাদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে। মেমারির দু’টি দোকান থেকে উদ্ধার হওয়া টিকিটের অধিকাংশই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। 
বুধবার খেলা হতো, এমন প্রায় দু’লক্ষ টাকার লটারি উদ্ধার করা হয়েছে। জেলার বাসিন্দারা বলছেন, ওয়ান ফিগার বা হাতে লেখা লটারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কোনও প্রমাণ না রেখে এই খেলা চলছে। বহু মানুষ এই খেলার নেশায় আসক্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। যদিও পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ আসার পরই কাটোয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন দোকান এবং স্টলের উপর নজরদারি চলছে।  ধৃত অভিযুক্তরা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ