Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রাক্তন বিধায়ক তিলক

মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লক্ষ টাকার প্রতারণায় গ্রেপ্তার। রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিস্তারিত পড়ুন।

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রাক্তন বিধায়ক তিলক
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন মহিষাদলের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী। মহিষাদলের দাপুটে নেতা হিসেবেই তাঁর পরিচিতি। গেঁওখালির পিএইচই জলপ্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে মহিষাদল থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা নাগাদ ওই অভিযোগ দায়ের হয় পুলিসের কাছে। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রাক্তন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বাড়ি থেকে থানায় তুলে আনে পুলিস। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিধায়ককে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ তাঁকে হলদিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। রাতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে তুলে আনার খবর চাউর হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তৃণমূল নেতাকর্মীরাও ওই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক। রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্ব মেদিনীপুরে এই প্রথম কোনো তৃণমূল বিধায়ক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মহিষাদলের বিজেপির নেতারাও ওই ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিট নাগাদ মহিষাদল থানায় তরুণকুমার দাস নামে কেশবপুর জালপাই গ্রামের এক বাসিন্দা তিলক চক্রবর্তীর নামে চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে তিলকবাবুর সর্বক্ষণের সঙ্গী আর এক তৃণমূল নেতা ছবিলাল মাইতির নামেও অভিযোগ রয়েছে। গতবছর ডিসেম্বর পিএইচই-তে টাকার বিনিময়ে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে তিলকবাবু তাঁর সঙ্গী ছবিলালকে ওই ব্যক্তির বাড়ি পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর ওই চাকরিপ্রার্থীকে মহিষাদলে বিধায়ক অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। তরুণবাবু পুলিসের কাছে দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা নাগাদ বিধায়ক অফিসে গিয়ে চাকরির জন্য নগদ ৬ লক্ষ দিয়েছিলেন। তাঁকে ওইসময় গেঁওখালি জলপ্রকল্পে চাকরির গ্যারান্টি দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তির অভিযোগ, সময় পার হয়ে গেলেও চাকরি হয়নি। তিনি বিধায়ক অফিসে টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রথমে বিধায়ক গড়িমসি করেন। গত ২৮ মে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তরুণবাবু বিধায়কের বাড়িতে টাকা ফেরত চাইতে যান। সেইসময় তাঁকে গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পুলিসের কাছে। তাঁর আরও অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নামে তৃণমূল বিধায়ক পিএইচই-র বিভিন্ন ডকুমেন্ট জাল করে তাঁকে দেখিয়েছেন। 
এদিন বেলা ১১টা নাগাদ ধৃত তৃণমূল বিধায়ককে আদালতে নিয়ে আসার আগে থানা থেকে হেল্থ চেকআপের জন্য গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, কেন গ্রেপ্তার হয়েছি তার উত্তর পুলিস দেবে। সময়ই সবকিছু একদিন বলে দেবে। আদালতে তৃণমূল বিধায়কের পক্ষের আইনজীবী বিমলকুমার মাজি বলেন, তৃণমূল বিধায়ককে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তিলকবাবুর উত্থান ছাত্র পরিষদের নেতা হিসেবে। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। বাম আমলে ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি কখনও মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, কখনও বিরোধী দলনেতা ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। এছাড়াও ছিলেন মহিষাদল রাজ কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি, পিএইচই জল প্রকল্পে ২০১৪ সাল থেকে আইএনটিটিইউসির ইউনিয়নের সভাপতি। কয়েকমাস আগে পিএইচই-তে নিয়োগের ঘটনায় তিলকবাবুর বিরুদ্ধে ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল। ওই জল প্রকল্পে প্রায় চার মাস ধরে নতুন বেতনচুক্তির দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন। ওইসময় শ্রমিকরা বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও করেন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে বিধায়কের একটি পুরনো বিতর্কিত মন্তব্য ব্যাপক ভাইরাল হয়। এনিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন ওঠে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ