নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গতবছর মহালয়ার দিন থেকেই তাঁর ব্যস্ততার শেষ ছিল না। একের পর এক পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করতেন। সকাল থেকে চলত বস্ত্র বিতরণ পর্ব। এর মাঝে কাঞ্চননগরে বৃদ্ধাশ্রমে কিছুটা সময় কাটাতেন। সন্ধ্যা নামলেই এ মণ্ডপ থেকে ও মণ্ডপে ফিতে কাটতেন। রাত পর্যন্ত ছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান পর্ব। চতুর্থীর সন্ধ্যায় উদ্বোধন পর্ব শেষ হত। বাকি দিনগুলিতেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল ঠাসা কর্মসূচি। এবার ব্যস্ততা নেই। শ্রীঘরে বসে যেন সময় কাটতেই চাইছে না। কখনও বর্ধমান থানার পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেপাজতে নিচ্ছে, আবার কখনও জেলে পাঠাচ্ছে। তিনি বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস। বিভিন্ন অভিযোগে তিনি ভোটের পরই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক কেস যুক্ত হচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমানের দু’জন বিধায়ককে শ্রীঘরে যেতে হয়। তৃণমূলের বাকি বিধায়করা বাইরে থাকলেও পুজো উদ্বোধনে ডাক নেই। নিজেদের এলাকায় তাঁরাও সমস্ত বড় পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করতেন। এবার তাঁরা কার্যত ঘরবন্দি। কিন্তু খোকনবাবুকে পুজো কাটাতে হচ্ছে শ্রীঘরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি এখন মানসিক অবসাদে ভুগছেন। নিজের মনেই বিড়বিড় করছেন। থানায় পরিচিত কেউ এলে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছেন। জীবন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছেন না। প্রাক্তন বিধায়কের এক ঘনিষ্ঠ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু বর্ধমানকে উৎসবে মাতিয়ে রাখতেন। বর্ধমানে পুজোয় কার্নিভাল তিনিই শুরু করেছিলেন। অধিকাংশ বড় পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু এবার তাঁকে পুজোর আনন্দের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এই সময়টা তাঁর মনে কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। এটাই হয়তো ভাগ্যের পরিহাস। তবে অনেকেই বলছেন, অভিযোগ অনেকের বিরুদ্ধেই ছিল। কিন্তু তাঁরা রেহাই পেয়ে গিয়েছেন। খোকনবাবুকেই শ্রীঘরে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে। প্রাক্তন বিধায়কের স্ত্রী মৌসুমি দাস বলেন, এবার আর কিছুই ভাল লাগছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এবছরও বর্ধমান শহরে জাঁকজমকের সঙ্গেই পুজো হচ্ছে। প্রায় ৩০টি পুজো কমিটি থিমে একে অপরকে চমক দিচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি ক্লাবের পুজোর আগের মতো জাঁকজমক নেই। বাজেটও অনেকটাই কমে গিয়েছে। ওই পুজো কমিটিগুলিতে তৃণমূল নেতারা মাথার উপর ছিলেন। তবে খোকনবাবুর নির্দিষ্টভাবে কোনো পুজো ছিল না। তিনি কমবেশি সব ক্লাবের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। এবার তাঁর জায়গায় এসেছেন অন্যরা। মণ্ডপ উদ্বোধনে তাঁদেরই কদর। আর অষ্টমীর দুপুর বা নবমীর রাতেও খোকনবাবুকে শ্রীঘরে বসেই স্মৃতিচারণ করতে হবে। মন খারাপের দিনগুলিতে তাঁর সঙ্গী থাকবেন বাকি বন্দিরা।



