নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাড়ায় পাড়ায় যখন স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলনের ব্যস্ততা, তখন শিবপুর থানা চত্বরে জনরোষের ছবি। ডিম-বর্ষণ থেকে বাঁচাতে কালো রেনকোট, মাথায় হেলমেট, সব প্রস্তুতিই ছিল। তা সত্ত্বেও রক্ষা করা গেল না হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা তৃণমূল নেতা শ্যামল মিত্রকে। থানা থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। অভিযোগ, পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। পরে হাওড়া আদালতের লকআপেও তাঁকে লক্ষ্য করে থুতু ছিটানো হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক এলাকা থেকে শিবপুর থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা শ্যামলকে গ্রেপ্তার করেন। শনিবার তাঁকে হাওড়া আদালতে তোলা হয়। শনিবার সকাল থেকেই শিবপুর থানা চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল। অনেকের হাতেই ছিল ডিম। পরিস্থিতি আঁচ করে পুলিশ শ্যামলকে রেনকোট ও হেলমেট পরিয়ে থানার বাইরে আনে। কিন্তু প্রিজন ভ্যান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিক্ষোভকারীদের ডিমের হাত থেকে তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বিশাল পুলিশ বাহিনী শেষ পর্যন্ত পাহারা দিয়ে তাঁকে আদালতে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন হাওড়া ময়দানের গণনাকেন্দ্রের সামনে কয়েকশো তৃণমূল কর্মীকে নিয়ে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছিলেন শ্যামল। পুলিশ বাধা দিলে দলবল নিয়ে তিনি পুলিশের উপর চড়াও হন ও মারধরও করেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী ও অফিসার আহত হন। ২০ মে শিবপুর থানায় এফআইআর হয়।
এছাড়াও এপ্রিল মাসে শিবপুর মন্দিরতলায় বিজেপির নির্বাচনী সভায় স্থানীয় নেতা শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপর হামলা, বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর এবং ১৫ লক্ষ টাকা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রয়েছে শ্যামলের বিরুদ্ধে। এই দুই মামলায় এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন। শ্যামলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়াতেই জনরোষ প্রকাশ্যে আসে। এমনকী কোর্ট লকআপেও জনৈক এক আইনজীবী তাঁকে লক্ষ্য করে থুতু ছিটান বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি প্রোমোটিং ও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে শ্যামলের বিরুদ্ধে। এনিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরও শ্যামলকে তাঁর বাড়ির কাছে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল।