নয়াদিল্লি: আমেদাবাদের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বিজেপির গুজরাতের রাজ্য সভাপতি সি আর পাতিল। তিনি জানিয়েছেন, দলের বড় ক্ষতি হয়ে গেল। অভিশপ্ত বিমানের ১২এ সিটে বসেছিলেন রূপানি। সূত্রের খবর, রূপানির ছেলে থাকেন আমেরিকায়। মেয়ে লন্ডনে। তাঁর কাছেই স্ত্রী অঞ্জলি গিয়েছিলেন। স্ত্রীকেই ফেরত আনতে লন্ডন যাচ্ছিলেন রূপানি। ১ জুলাই তাঁদের ফেরার কথা ছিল। এদিন রূপানির এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে বসা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সামনের সিটে বসা এক মহিলা যাত্রী সেটি তুলেছিলেন বলে খবর।
তবে রূপানি একাই নন, রাজ্যের আরও এক মুখ্যমন্ত্রীরও বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর নাম বলবন্ত রাই মেহতা। গুজরাতের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ওই গান্ধীবাদী নেতা। ১৯৬৫ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলছিল। সেই সময় বিমানে চেপে আমেদাবাদ থেকে মিথাপুর যাচ্ছিলেন বলবন্ত। সেই সময় পাকিস্তানি বায়ুসেনার একটি যুদ্ধবিমান তাঁর বিমানটিতে আঘাত হানে। ফলে কচ্ছের রণের কাছে সেটি আছড়ে পড়ে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী, সহযোগী, এক সাংবাদিক ও দুই ত্রু-মেম্বারের মৃত্যু হয়। অসামরিক একটি বিমানে পাক বায়ুসেনার হামলার কড়া সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। পরে বিষয়টিকে ‘যুদ্ধের সময় ভুল বোঝাবুঝি’ বলে পিঠ বাঁচনোর চেষ্টা করে ইসলামাবাদ। যদিও সরকারিভাবে কোনওদিনই ক্ষমা চায়নি তারা।
গুজরাতের পাশাপাশি আকাশ-বিপর্যয়ের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি ও অরুণাচলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দোরজে খান্ডু। ২০০৯ সালে রেড্ডি হেলিকপ্টারে চেপে যাচ্ছিলেন। নাল্লামালা অরণ্যে খারাপ আবহাওয়া ও যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চপারটি। মৃত্যু হয় রেড্ডির। অন্যদিকে, ২০১১ সালে আবহাওয়াজনিত সমস্যায় পাহাড়ি এলাকায় ভেঙে পড়ে খান্ডুর হেলিকপ্টার। বেশ কয়েকদিন পরে ১৩ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতায় তাঁর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়।