Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কয়লা পাচারে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ বারাবনির প্রাক্তন ওসির, দাবি ইডির

বারাবনির প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল কয়লা পাচারে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি ইডির। বিস্তারিত জানুন।

কয়লা পাচারে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ বারাবনির প্রাক্তন ওসির, দাবি ইডির
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়লা পাচারের সিন্ডিকেট চালাতেন বারাবনি থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। কয়লা পাচারে দুর্নীতি ও ক্ষমতার  অপব্যবহার করে সাত কোটি টাকা নিজের পকেটে পুরেছেন মনোরঞ্জন। তাঁর সঙ্গে একাধিক কয়লা মাফিয়ার যোগাযোগ মিলেছে। মনোরঞ্জনের মামলার সওয়ালে আদালতে এমনটাই দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই সঙ্গে এই ওসি হাওলা কারবারেও জড়িত। তাঁর সঙ্গে কয়লা মাফিয়া চক্রের পান্ডাদের হোয়াটঅ্যাপ চ্যাটের তথ্য মিলেছে বলে এজেন্সি দাবি করেছে। প্রসঙ্গত দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর মনোরঞ্জনের উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে ইডি। শুক্রবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। কয়লা পাচারের মামলার তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, আসানসোল উত্তর, আসানসোল দক্ষিণ, পান্ডবেশ্বর ও বারাবনি থানায় কয়লা পাচারের ৫৮টি কেস রুজু হয়েছে। বেশিরভাগ কেসের তদন্তকারী অফিসার ছিলেন এই মনোরঞ্জন মণ্ডল। ঘুরে ফিরে তিনি এই থানাগুলিতে পোস্টিং পেয়েছেন। এমনকী ওসিও ছিলেন সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতে। তদন্তে নেমে ইডি সাতবার ডেকে পাঠায় মনোরঞ্জবাবুকে। তাঁর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেখান থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। ইডি আদালতে দাবি করেছে, ইসিএল কর্তৃপক্ষ সহ বিভিন্ন কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গুন্ডা  ট্যাক্স আদায়ের জন্য দুটি সিন্ডিকেট ছিল। একটি ঝাড়খণ্ডের, অন্যটি পশ্চিমবঙ্গের। বেআইনিভাবে কয়লা পাচারে সুযোগ করে দেওয়ায় ‘প্রোটেকশন মানি’ বা ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ পৌঁছে যেত এই ওসির কাছে। ইডি দাবি করেছে, কয়লা মাফিয়া চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ’র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল এই ওসির। চিন্ময়ের সঙ্গে তাঁর একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে মিলেছে। যেখানে টাকাপয়সার লেনদেন নিয়ে একাধিক তথ্য রয়েছে। ওই টেক্সট মেসেজের তথ্য ধরে ইডি জেনেছে, মনোরঞ্জন ও তাঁর স্ত্রী নামে থাকা বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ ও ২৫ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। ওই ওসি বিভিন্ন সময়ে কয়লা মাফিয়াদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে। মনোরঞ্জনের সঙ্গে চিন্ময় মণ্ডলের চ্যাট ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই ওসি এক কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা দিল্লিতে পাঠাতে বলেছিলেন চিন্ময় মণ্ডলকে। পরে সেই টাকা ঋণ হিসেবে দেখিয়ে জমা পড়ে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। কয়লা পাচারের টাকা তিনি ‘ট্রেল’ করতে সাহায্য করেছেন। আদালতে ইডির আরও দাবি, চিন্ময় মণ্ডলের থেকে সরকারি টেন্ডার মানির ১৫ শতাংশ শেয়ার নিয়েছেন। নিজের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা করতে বলা হয়েছিল। এমনকী স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট বুক করতে নির্দেশ দেন। সেই কারণে ইডি তাঁকে ১০দিনের হেফাজতে চায়। মনোরঞ্জনের আইনজীবী বলেন, জামিন অনুমোদন না হলে, তাঁর মক্কেলকে প্রথম শ্রেণীর বন্দির মর্যাদা দেওয়া হোক। সওয়াল শেষে মনোরঞ্জন মণ্ডলকে ইডি হেফাজতে পাঠায় আদালত।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ