চেন্নাই: অন্য কেউ নয়, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীই বিরোধী ঐক্য দুর্বল করছেন। তিনি ‘রাজনৈতিকভাবে অপরিণত’। তামিলনাড়ুতে ভোট পরবর্তী ‘বিচ্ছেদে’র আবহে এভাবেই প্রাক্তন শরিক নেতাকে আক্রমণ করেছে ডিএমকে। এম কে স্ট্যালিনের দলের মুখপত্র ‘মুরাসলি’তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ইন্ডিয়া ব্লকের অন্দরে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একঝাঁক প্রশ্নও তোলা হয়েছে। শুধু দলীয় মুখপত্র নয়, ডিএমকের আইটি শাখাও রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে ‘বড়ো তামাশা’ বলেও উপহাস করা হয়েছে।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটে জোট করে লড়েছিল ডিএমকে ও কংগ্রেস। যদিও ফলপ্রকাশের পর ডিএমকের সঙ্গ ছেড়ে বিজয়ের টিভিকে-কে সমর্থন করে হাত শিবির। ডিএমকে-কে ক্ষমতাচ্যুত করে মুখ্যমন্ত্রী হন বিজয়। সেই আবহেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে সরব ডিএমকে। দলের আইটি শাখার তরফে লেখা হয়েছে, কংগ্রেস যখন রাজনৈতিক অস্তিত্বরক্ষার লড়াই চালাচ্ছিল, আমরা সেই সময় তাদের নিজেদের কাঁধে বহন করেছি। কিন্তু তারাই এখন জল থেকে ডাঙায় উঠে ‘চকচকে খেলনা’র লোভে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। রাহুল গান্ধী হলেন ‘বড়ো তামাশা’। ডিএমকে মুণ্ডপাত করলেও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের যুক্তি, তারা তামিলনাড়ুর জনতার রায়কে সম্মান জানিয়েছে মাত্র।
কংগ্রেসের আহ্বানে আয়োজিত ইন্ডিয়া ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠক বয়কট করেছে ডিএমকে। তাদের বক্তব্য, বিরোধী শিবিরের তোলা ইস্যুগুলিতে দলের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তবে কংগ্রেসের ডাকা কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়া হবে না। এই অবস্থায় ডিএমকে মুখপত্র ‘মুরাসলি’তে লেখা হয়েছে, রাহুল গান্ধী মুখে বিরোধী ঐক্যের জ্ঞান দিলেও বাস্তবে কংগ্রেসই তা দুর্বল করছে। কেরলে ভোটের প্রচারে রাহুল গান্ধী সিপিএমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছিলেন। বাম সরকার গোপনে বিজেপিকে সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন। ফলে রাজ্য রাজ্যে কংগ্রেসই বিরোধী ঐক্য দুর্বল করছে।