নয়াদিল্লি: অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের নতুন সিইও হলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। মন্দিরের প্রণামি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রাই। তখনই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও তদারকি বাড়াতে স্থায়ী সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জমা পড়া ৫ হাজার ৫৮৫ আবেদনের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে তিনজনকে বাছাই করা হয়েছিল। সেখান থেকেই বুধবার ট্রাস্টের বৈঠকে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তার নাম চূড়ান্ত করা হয়। রাম মন্দিরের দুর্নীতি প্রতিরোধে অসামরিক প্রশাসক নয়, আস্থা রাখা হল সামরিক বাহিনীতে। নিটের প্রশ্নফাঁসের পরও রি-নেটের সময় কাজে লাগানো হয়েছিল বায়ুসেনাকে। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মনোনীত হলেন গোবিন্দদেব গিরি।
ভারতীয় বায়ুসেনায় ৩৯ বছর কর্মরত ছিলেন এয়ার মার্শাল মিশ্র। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের দায়িত্ব নেন। অপারেশন সিন্দুরের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। পুনের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি ছাড়াও বেঙ্গালুরুর এয়ারফোর্স টেস্ট পাইলটস স্কুল, এয়ার কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং আমেরিকার রয়্যাল কলেজ অব ডিফেন্স স্টাডিজ থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। কর্মজীবনে সর্বোত্তম যুদ্ধ সেনা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেনা মেডেল, বিশিষ্ট সেনা মেডেলের মতো একাধিক পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি। গত এপ্রিলে তিনি অবসর নেন।
রাম মন্দির ট্রাস্টের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসাবে আধিকারিক, কার্যকর্তা, সদস্য ও কর্মীদের তদারকি করবেন প্রাক্তন এয়ার মার্শাল মিশ্র। রাম মন্দির সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যপদ্ধতি ও পরিচালনার দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। অন্যদিকে এদিন নতুন তিন সদস্যকেও ট্রাস্টি হিসাবে যুক্ত করেছে রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট। দিল্লির মহেশ ভাগচন্দকা, প্রাক্তন অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল মদন মোহন পান্ডে ও নির্মলা যাদব যুক্ত হচ্ছেন ট্রাস্টে। রাম মন্দিরের নতুন কোষাধ্যক্ষ হচ্ছেন মহেশ ভাগচন্দকা। তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন নেতা অশোক সিঙ্ঘলের আত্মীয়।
পাশাপাশি এদিন ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্দিরের অভ্যন্তরীন অডিট সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ সহ এখনও পর্যন্ত মূলধনী খরচ হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা। ৩১ মার্চ পর্যন্ত ট্রাস্টের হাতে রয়েছে মোট ১৮৮২ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট আয় ২৩৭ কোটি টাকা। খরচ হয়েছে ৯১ কোটি টাকা।