নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধায়কদের সই জাল মামলার তদন্তে তৈরি হল সিট। সিআইডির ডিআইজি পদমর্যাদার এক অফিসারকে এই সিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন পদাধিকার বা ক্ষমতাবলে বিধানসভার সচিবের কাছে বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবকের চিঠিটি পাঠালেন সেটি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার সচিবের সঙ্গে কথা বলবেন তদন্তকারীরা।
সই জাল মামলায় আজ সোমবার ভবানীভবনে অভিষেকের হাজিরা দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি আদৌ আসবেন কি না তা নিয়ে তদন্তকারীদের মনে সংশয় দানা বেঁধেছে। সোনারপুরে নিগৃহীত হওয়ার পর ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। তাঁর শরীরে আঘাত লেগেছে বলে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে। তাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সাংসদের না আসার সম্ভাবনা দেখছেন তদন্তকারীরা। সেক্ষেত্রে হয়তো আইনজীবী মারফত তিনি চিঠি পাঠিয়ে দেবেন। তবে তিনি হাজির না-হলে তাঁকে আবার নোটিস পাঠানো হবে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে তদন্তে নেমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে যে রেজোলিউশন হয়েছিল তার কপি সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। সেখানে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তার তথ্য পেয়ে গিয়েছেন তাঁরা। তদন্তে উঠে আসে যে, সেদিন কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের সই হয়ে গিয়েছে! তাই সিটের সদস্যরা চিহ্নিত করতে চাইছেন এই ‘নকল’ সইগুলি কে বা কারা করলেন। সই সংগ্রহের দায়িত্বে যিনি ছিলেন তিনি এই কাজ করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, যিনি এই সই ‘জাল’ করেছেন তিনি কারো কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েই এই কাজটি করেছিলেন। ওই নির্দেশদানকারী ব্যক্তিটি কে, সেটা খুঁজে বের করাই সিআইডির কাছে মূল চ্যালেঞ্জ। আর ওই চিঠি অভিষেক কেন দিতে গেলেন, তা নিয়ে তথ্য জোগাড় করছেন তদন্তকারীরা। কারণ তাঁরা জেনেছেন নিয়মানুযায়ী এই চিঠি তাঁর দেওয়ারই কথা নয়।