সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: এবার ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে রাস্তা পাচ্ছে নবদ্বীপের ফরেস্টডাঙা গ্রাম। রাস্তাটি কয়েক বছর ধরেই ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়েছিল। এবিষয়ে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় বহুবার খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাস্তাটি সারানোর দাবি তুলে গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েত, ব্লক ও জেলাস্তরে গিয়েছিলেন। অবশেষে, রাস্তাটি পুনর্নির্মাণে পথশ্রী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই খুশি গ্রামবাসীরা।
নবদ্বীপে মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের গৌরাঙ্গ সেতু সংলগ্ন ফরেস্টডাঙা গ্রামে যেতে একটিমাত্র রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তার বেশকিছু জায়গায় ধস নেমে নীচে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে গিয়েছে। ফলে যেকোনও সময় রাস্তাটির মাঝখানের অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এহেন বিপজ্জনক রাস্তা দিয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের কার্যত প্রাণ হাতে করে চলাচল করতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামের চার-পাঁচ হাজার মানুষ চলাচল করেন। পার্শ্ববর্তী ঘোলাপাড়া, জঙ্গলবাস, আনন্দবাস সহ আশপাশের গ্রামের মানুষও রাস্তাটি ব্যবহার করেন। তিন-চার বছর আগে পিডব্লুডি প্রায় ৭০০মিটার রাস্তাটি তৈরি করেছিল। বর্তমানে এই কংক্রিটের ঢালাই রাস্তাটির প্রায় ২৫০মিটার অংশ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এই ৭০০মিটারের মেরামতির পাশাপাশি ফরেস্টডাঙার সংস্কৃত কলেজ মোড় পর্যন্ত অতিরিক্ত আরও ৮০০মিটার রাস্তা তৈরি হবে। এবার মোট ১৫০০মিটার রাস্তা পথশ্রী প্রকল্পে তৈরি হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই সেই অনুমোদন মিলেছে। শীঘ্রই রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি তৈরি করার জন্য ওই এলাকার গ্রামবাসীরা দাবি জানাচ্ছিলেন। রাস্তাটির বেশকিছু জায়গায় নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে গিয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে ধসে গিয়ে ভেঙে যেতে পারে। গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে রাস্তাটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শীঘ্রই কাজ
শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাগীরথীর জল বাড়লে এই রাস্তাটি বন্যা প্রতিরোধে বাঁধের কাজ করে। রাস্তার নীচে ধস নেমে সুড়ঙ্গ দিয়ে নদীর জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে পড়ে। এছাড়া অতি বর্ষণে যেকোনও মুহূর্তে রাস্তা ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গ্রামবাসীরা রাস্তাটি দ্রুত মেরামতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আগে তাঁরা একটি গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং নবদ্বীপ ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গ্রামে প্রায় এক হাজার পরিবারের বসবাস। তাঁদের বেশিরভাগ মানুষই শ্রমজীবী।
মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের শিল্প ও পরিকাঠামো দপ্তরের সঞ্চালক মিঠুন ঘোষ বলেন, এই রাস্তাটির বিষয়ে বারবার ব্লক জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারপরেও তা মেরামত করা হয়নি। সম্প্রতি জেলায় জানানোর পর পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তাটি মেরামতির অনুমোদন মিলেছে। রাস্তাটির কাজ শুরু হলে গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি
পূরণ হবে। -নিজস্ব চিত্র