সংবাদদাতা, কাটোয়া: বসন্তের পাতা ঝরার মরশুমে আউশগ্রামের আদুরিয়া জঙ্গলের হেদোগড়িয়াতে কয়েক হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে খাক। তিনদিন ধরে জঙ্গল জ্বলছে। বনের শুকনো পাতায় আগুন লেগে তা হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে গোটা জঙ্গল এলাকায়। শনিবার আগুন আয়ত্তে আনলেও স্থানীয়দের দাবি, এখনও জ্বলছে। এই জঙ্গলে প্রচুর ময়ূর রয়েছে৷ তাই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছেন। সচেতনতা মূলক প্রচার চালিয়েও লাভ হচ্ছে না। কারা লাগাচ্ছে আগুন তা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যদিও আদুরিয়া বিটের অফিসার পিনাকি ভট্টাচার্য বলেন, আমরা আগুন আয়ত্তে এনেছি। জানা গিয়েছে, তিনদিন ধরে আউশগ্রামের আদুরিয়া বিটের অধীনে মোড়বাঁধ থেকে ১১ মাইল জঙ্গল যাওয়ার রাস্তার দু' দিক দাউ দাউ করে জ্বলছে। আদুরিয়ার শালকো কালীতলার পিছন থেকে পুরো জঙ্গলে আগুন লেগেছে। এছাড়া আকুলিয়া, কালিকাপুর সংলগ্ন একাধিক জায়গায় গাছপালা আগুনে পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান কয়েক হেক্টর জঙ্গল পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আদুরিয়ার জঙ্গলে ময়ূরের ডিম পাড়ার সময়। আশঙ্কা, আগুনে ময়ূরের ডিম পুড়ে নষ্ট হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র সচেতনতামূলক প্রচার করে দায় সারলে হবে না। বনদপ্তরের নজরদারির অভাবেই এই ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জঙ্গলে জলের ট্যাঙ্ক দেওয়ার কথা থাকলেও কোথাও তার দেখা মেলেনি। জঙ্গলের শুকনো পাতা বা ডালপালায় লাগা আগুন হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বনে আগুন লাগানো নিয়ে এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানান, অনেক সময় জঙ্গলে আগুন লাগানো হচ্ছে। তার জন্য সতর্কতা মূলক বোর্ড লাগানো রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু অসাধু মানুষদের মধ্যে জঙ্গলে আগুন লাগানোর প্রবণতা রয়েছে। প্রসঙ্গত, আউশগ্রামের আদুরিয়া জঙ্গলে ময়ূরের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি এই জঙ্গলে ইন্ডিয়ান উলফ বা হেঁড়ল, খরগোশ, অজগর, বনমুরগি, বনবিড়ালেরও দেখা মিলছে। হেঁড়লের সংখ্যাও আগের থেকে বেড়েছে। পাশাপাশি এখন আউশগ্রামের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায় প্যাঙ্গোলিন ও সজারুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং জঙ্গলে তাদের সুরক্ষিত রাখাটা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন পর্যটকদের একাংশ। আগুনে জীবজন্তুর ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই। যদিও বনদপ্তর এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দা রাধামাধব মণ্ডল বলেন, আমি লিখিতভাবে পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএফওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। একসময় আদুরিয়ার এই জঙ্গলে এসে থেকেছেন রাজা বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন। অজয় লাগোয়া এই জঙ্গলের ঐতিহ্য রয়েছে। এই জঙ্গলের একপাশে কাঁকসার ইছাই ঘোষের দেউল উদ্যানে হরিণ রয়েছে। জঙ্গলে আগুন কীভাবে লাগল তার তদন্ত হওয়া দরকার।