সংবাদদাতা, মানবাজার: বন দপ্তরের জমিতে সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে দখলের ছক! অভিযানে নেমে প্রায় ২৪ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করল বন দপ্তর। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগের মানবাজার ২ রেঞ্জের দীঘি মৌজার এই ঘটনায় শোরগোল ছড়ায় এলাকায়। বন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, অভিযোগ পেয়ে সরকারি জমিতে খুঁটি পুঁতে চিহ্নিত করা এমন ২৪ বিঘার মতো খাস জমি উদ্ধার হয়েছে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মানবাজার ২ রেঞ্জর দীঘি মৌজায় বন দপ্তরের বিস্তীর্ণ খাস জমি রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট ওই জমির কিছু অংশ সিমেন্টের ঢালাই খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নজরে আসার পরের দিন বন দপ্তরের তরফে ওই খুঁটিগুলি তুলে ফেলা হয়। কিন্তু এরপরেও ওই এলাকায় ফের বিভিন্ন জায়গায় খুঁটি পোঁতা হয় বলে বন দপ্তরের দাবি।
এরপরই বৃহস্পতিবার স্থানীয় বন দপ্তর এবং কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বন দপ্তরের দাবি, খুঁটি পুঁতে চিহ্নিত করা প্রায় ২৪ বিঘার মতো খাস জমি অসাধু কারবারিদের চক্র থেকে উদ্ধার করা গিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে ওই জমি নিয়ে ফের কোনো ধরনের দখলের চেষ্টা না হয়, সেজন্য বনদপ্তরের জমি বলে উল্লেখ করে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছে। বন দপ্তর সূত্রে দাবি, ওই জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বেআইনিভাবে কেনাবেচার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুঁটি পুঁতে জমি চিহ্নিত করার পিছনে একটি চক্র কাজ করছে বলেও বন বিভাগের কাছে খবর রয়েছে। সেই চক্রের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর। ঘটনাটি পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা এলাকাটি পাথরসমৃদ্ধ। ফলে খুঁটি পুতে চিহ্নিত ওই খাস জমি ব্যবসায়ীদের বিক্রি করে পাথর উত্তোলন বা মাইনিং সংক্রান্ত কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য বন দপ্তরের হাতে আসেনি। স্থানীয়দের দাবি, বনদপ্তরের ওই জমি খুঁটি পুতে চিহ্নিত করে তা বিক্রির ছক এটেছিল কিছু স্থানীয় কারবারি। এলাকার কিছু প্রভাবশালীরও নাম উঠে আসছে এই চক্রে। বনবিভাগের আধিকারিকদের বক্তব্য, সরকারি ও বন দপ্তরের জমি দখলের কোনোরকম চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বনদপ্তর।