Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্ব হাতি দিবসে ঝাড়গ্রামের রামলালকে স্বীকৃতি প্রদানের ভাবনা-চিন্তা বনদপ্তরের

‘বন্যেরা বনে সুন্দর, ঝাড়গ্ৰাম শহরে রামলাল।’—প্রমাণ করে দিল রামলাল নিজেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের দিন বনকর্তা থেকে জেলা প্রশাসনের কর্তারা তাকে নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় ছিলেন।

বিশ্ব হাতি দিবসে ঝাড়গ্রামের রামলালকে স্বীকৃতি প্রদানের ভাবনা-চিন্তা বনদপ্তরের
  • ৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, ঝাড়গ্ৰাম শহরে রামলাল।’—প্রমাণ করে দিল রামলাল নিজেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের দিন বনকর্তা থেকে জেলা প্রশাসনের কর্তারা তাকে নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় ছিলেন। পাছে রামলালকে ঘিরে শহরের কোথাও হূলস্থূল কাণ্ড ঘটে যায়! কোথাও না দাপাদাপি শুরু করে দেয়! না...। এসব কিছুই করেনি ঝাড়গ্রামবাসীর প্রিয় হাতি রামলাল। মুখ্যমন্ত্রী সফর-সময়ে শহরের ত্রিসীমানাও মাড়ায়নি সে। রামলালের এহেন উদারতায় মুগ্ধ বনদপ্তরের আধিকারিক থেকে কর্মীরা। বিশ্ব হাতি দিবসে তাকে ‘বন-বন্ধু’ স্বীকৃতি দেওয়ার ভাবনা-চিন্তা। চলছে।     
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ‘রামলাল ঝাড়গ্রামবাসীর কাছে একরকম সেলিব্রিটি। ওকে সবাই ভালোবাসে। সবার প্রিয়। বিশ্ব হাতি দিবসে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের তরফে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হবে রামলালকে। বিষয়টি নিয়ে দপ্তরে বৈঠকও হয়েছে। সেখানে রামলালকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।’ 
ঝাড়গ্রাম শহর ও শহর লাগোয়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এখন রামলাল। নিজের মনে ঘুরে বেড়ায়। জঙ্গলের হাতির পালের সঙ্গে  তার কোনও মেলামেশা নেই। আনাগোনা বেশি লোকালয়েই। মানুষের সঙ্গে থাকতে সে বেশি স্বচ্ছন্দ। জঙ্গলের হাতির পাল লোকালয়ে এসে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ফসল নষ্ট করছে।। বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বনবিভাগের কাছে যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। সেখানে রামলালের বিরুদ্ধে কোনওরকম অভিযোগ নেই। রয়েছে তার প্রতি অগাধ ভালোবাসা। 
ঝাড়গ্রামে রামলালের আসা নিয়ে নানা গল্প শোনা যায় শহরে। দলমা পাহাড় থেকে হাতির পালের সঙ্গেই আজকের রামলাল এসেছিল বলে অনেকের মত। আবার কেউ বলেন, রামলাল ছিল পোষা হাতি। তার প্রিয় মাহুত মারা যাওয়ার পর সে একা হয়ে যায়। তারপর থেকেই সে একা একা ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। শহর, গ্ৰামে ঢুকলেও সে শান্ত, স্থির। ‘তাণ্ডব’ কথাটা তার অভিধানে নেই। কেউ খাবার দিলে তবেই সে মুখে তোলে। নচেৎ নয়। 
রামলালের বিরুদ্ধে ‘খুন’-এর কোনও রেকর্ড নেই। রামলালকে কেউ উত্যক্ত করার চেষ্টা করলে প্রতিবাদে সরব হন জেলাবাসী। সমাজ মাধ্যমেও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগেরও জোর তৎপরতা ছিল। হাতি উপদ্রুত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। শহরে রামলালের ঢুকে পড়া নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিলেন বনকর্তারা। নজরদারিরও ব্যাবস্থা ছিল। শহর লাগোয়া শালবনী এলাকায় রামলাল  একবার ঢুঁ মারলেও মূল শহরে ঢোকেনি। রামলালের এই আচারণে স্বভাবতই ঝাড়গ্রামের বনবিভাগের আধিকারিকরা বেশ খুশি। রামলালকে তারই স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে বনদপ্তর সূত্রে খবর। বন বিভাগের এক আধিকারিক বলছিলেন, ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর দু’দিনের সফরকে ঘিরে হাতি উপদ্রব রুখতে সবরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শহরে রামলালের ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও ছিল। সেই মতো বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জের অফিসাররা রামলালকে চোখে চোখে রেখেছিলেন। কিন্তু রামলাল শহরে প্রবেশই করেনি। বনবিভাগের আধিকারিকদের মতে, ইচ্ছে করলে রামলাল শহরে ঢুকে পড়তে পারত। সে কিছু না করলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। তাতে সমস্যা তৈরি হতো। রামলাল অবশ্য কোনওকিছুই করেনি। শহরের বাসিন্দা তুষার মাহাত বলছিলেন, ‘রামলাল নিজের গুণেই বনবন্ধু হয়ে উঠেছে। বনবিভাগের তরফে যদি স্বীকৃতি দেওয়া হয়, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’

Advertisement

-ঝাড়গ্রামে রামলাল। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ