Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিশ্চিন্তপুরে নমুনা সংগ্রহ করল ফরেনসিক দল, গণপিটুনির ঘটনায় আরও দু’জন গ্রামবাসী গ্রেপ্তার

তেহট্ট থানার নিশ্চিন্তপুরে গণপ্রহারে খুনের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই নিয়ে মোট তিনজন গ্রেপ্তার হল

নিশ্চিন্তপুরে নমুনা সংগ্রহ করল ফরেনসিক দল, গণপিটুনির ঘটনায় আরও দু’জন গ্রামবাসী গ্রেপ্তার
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা তেহট্ট: তেহট্ট থানার নিশ্চিন্তপুরে গণপ্রহারে খুনের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই নিয়ে মোট তিনজন গ্রেপ্তার হল। বালক খুনের ঘটনায় আগেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল তারা। সোমবার দুই সদস্যের ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে আসে। অকুস্থল সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। এদিন গণপ্রহারের অভিযোগে ধৃত দুজনকে মঙ্গলবার তেহট্ট আদালতে তোলা হবে। 

Advertisement

এদিন নিশ্চিন্তপুর স্বর্ণাভদের বাড়ি সহ আশপাশের এলাকা ছিল একেবারে শুনশান। লোকজন বিশেষ চোখে পড়েনি। এদিন দুপুরে ফরেন্সিক টিমের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ, এসডিপিও (তেহট্ট) শুভতোষ সরকার, আইসি সহ দুই ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। ফরেন্সিক দল প্রথমে যায় যেখানে বালকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে সেখানে। সেখান থেকে বালকের একজোড়া চপ্পল, পলিথিন সংগ্রহ করেন। এরপর গণপ্রহারে মৃত উৎপল মণ্ডল ও সোমা মণ্ডলের বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। সেখান থেকে সরাসরি তাঁরা চলে যান বটতলা মণ্ডপের কাছে। ওই জায়গাতেই দম্পতিকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেখানে বাঁশ, গামছা ও একজোড়া জুতো পড়েছিল। এছাড়া রক্তাক্ত মাটিও সংগ্রহ করে ফরেন্সিক দল। 
শুক্রবার স্বর্ণাভ শৌচালয় থেকে বেরোনোর পর কী হয়েছিল, কীভাবে সে উধাও হল সেই বিষয়টি পুলিশকে ধন্দে ফেলেছে। কে বা কারা তাকে অপহরণ করল বা কী উদ্দেশ্যে খুন করল তাই নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এদিন স্বর্ণাভের বাবা সত্যেন বিশ্বাস বলেন, ছেলে বাড়ি থেকে বেরলে মূল দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে যায়। কিন্তু শুক্রবার নিখোঁজের পর তাঁর স্ত্রী পিঙ্কি বিশ্বাস ভিতর থেকে দরজা খুলে বাইরে যায়। ফলে সে দরজা দিয়ে বাইরে যায়নি। তাহলে পাঁচিল টপকে কেউ তাঁকে অপহরণ করতে পারে। 
শনিবার ছেলের দেহ উদ্ধারের আগে উৎপলের স্ত্রী সোমা আমার বাড়িতে এসেছিল।  কিন্তু কোনও কথা কারও সঙ্গে বলেনি। কিছুক্ষণ থাকার পর আবার চলে যায়। সোমা কী করতে এসেছিল সেটা রহস্য। তিনি বলে, ছেলেকে খুন করার আগে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। ছেলের মৃতদেহ যখন উদ্ধার হয় তখন  মাথায় রক্ত লেগেছিল। ঠোঁটে কাটা ছিল। 
ফরেন্সিক দল উৎপলের বাড়িতে ঢুকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। উৎপলের বাড়িতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা পাওয়া গিয়েছে, তাতে তদন্ত সহজ হবে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে।   
সোমবার গোটা ঘটনা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তেহট্ট থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন এসডিপিও  (তেহট্ট) শুভতোষ সরকার।  তিনি বলেন,  খুনের কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে গণপ্রহারের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রত্যেকের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এখনও পর্যন্ত বালক খুনে চারজন ও গণপ্রহারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ